সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে রাজশাহী গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএনপি-জামায়াতের এক ক্যাডার কর্মরত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মুলত হাওয়া ভবনের মদদপুষ্ট এবং ততকালীন রাজশাহী জামাতে আমীরের স্নেহভাজন হওয়ায় চাকুরী পেয়ে যান রাজশাহী গণপূর্ত অধিদপ্তরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ ।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ এর গ্রামের বাড়ী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় অবস্থিত, তাঁর পুরো ফ্যামেলি জামাত- বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে হাওয়া ভবনের ইন্ধনে নিয়োগ পায়। জনাব মো: আয়াতুল্লাহ উপ-সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) গত বিএনপি সরকার বদল হওয়ার সাথে সাথে আওয়ামী লীগ এ যোগ দিয়ে সকলকে আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী বলে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুলিপি মাননীয় মন্ত্রী, (মন্ত্রীর একান্ত সচিব) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, সচিব গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, চেয়াম্যান পাবলিক সার্ভিস কমিশন ঢাকা, চেয়াম্যান দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন) গণপূর্ত অধিদপ্তর, অতিঃ প্রধান প্রকৌশলী গণপূর্ত জোন রাজশাহী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) গণপূর্ত অধিদপ্তর, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গণপূর্ত সার্কেল রাজশাহী, পরিচালক দুর্নীতি দমন কমিশন রাজশাহীর বরাবর দাখিল করেছেন কয়েকজন অভিযোগকারী।
সরকারী বিভিন্ন দফতরের জমা হওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আয়াতুল্লাহ ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধী গণপূর্ত বিভাগ-২এ কর্মরত রয়েছেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ২০০৩ইং সালের ৩০ জানুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ১৯নং পাতায় প্রকাশিত লোকবল নিয়োগ সার্কুলার জারিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ ছিলো কোন র্স্বীকৃতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হতে ডিল্পোমা ইনর-ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাস হতে এবং একই শিক্ষাগত যোগ্যতায় ২০০৫ইং সালে লোকবল নিয়োগ সার্কুলার জারি করে, কিন্তু মো: আয়াতুল্লাহ ১৯৯৪-৯৫ইং সেশনে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট- এর ট্রেড ডিল্পোমা-ইন- ইলেকট্রনিকস-এ ভর্তি হন, যার বোর্ড রেজিষ্টেশন নং- ২১১৩, বোর্ড রোল নং- ২০৬৭।
ডিপ্লোমা-ইন- ইলেকট্রনিকস এ ১৯৯৭ইং সালে অনুষ্ঠিত ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে এবং তার ফলাফল ২৯-০৪-১৯৯৮ইং তারিখ প্রকাশিত হয়। যাহার সার্টিফিকেট নং- ০৪৩৮২৮ এবং তিনি দ্বিতীয় শ্রেণীতে উর্ত্তীন হয়। প্রকাশ থাকে যে, ইলেকট্রনিকস/ ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল/পাওয়ার/কম্পিউটার/সিভিল এগুলো আলাদা আলাদা ট্রেড এর সকল র্কোস ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রদান করে থাকে। কি করে আলাদা ট্রেডের ছাত্র হয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পায় তাহা বোধগম্য নয়। তবে নিয়মানুসারে উনার স্থলে একজন ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল সার্টিফিকেট ধারী ছাত্র নিয়োগ পেলে দক্ষ প্রকৌশলী হতে পারতো।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজশাহী গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে – তিনি সাক্ষাতকার দেয়ার নামে সাংবাদিকদের সাথে কয়েক দফা প্রতারনার আশ্রয় নিয়েও সাক্ষাত করেননি।

