আতাউর রহমান সরকার মতলব উত্তর।
মতলব উত্তর (চাঁদপুর): চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা সেচ কমিটি। একই সঙ্গে মৌসুমজুড়ে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ, সেচ ও নিষ্কাশন খালের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশন ও কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচিতি পর্ব শেষে স্বাগত বক্তব্য ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় কৃষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদ, মতলব উত্তর-এর সভাপতি মো:- আতাউর রহমান সরকার। তিনি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকরা সময়মতো বীজতলা তৈরি, চারা উৎপাদন ও রোপণ করতে পারবেন। এতে ধানের আবাদ যথাসময়ে সম্পন্ন হবে, কর্তনের সময় ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়বে না এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন অর্জনের সম্ভাবনা বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সেচের পানি পেতে বিলম্ব হলে তীব্র শীতের কারণে বীজতলা তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি চারার বয়সের সঙ্গে রোপণের সময়ের সামঞ্জস্য নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ১ জানুয়ারি থেকে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো পানি পেলে কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারবেন।
সভায় চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করা হবে। ১ জানুয়ারি থেকে কৃষকদের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কাজ করবে। এ কার্যক্রম সফল করতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, কৃষকদের ফসল উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত সময়েই সেচ পাম্প চালু করা হবে এবং চাহিদা অনুযায়ী সেচ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি সেচ ও নিষ্কাশন খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। খাল দখল ও অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো:- ফয়সাল আলী, পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিয়া মনজুর আমিন (আহমদ) স্বপন, অ্যাসোসিয়েশন নেতা খোরশেদ আলম সরকার, নুরুল আমিন মাস্টার এবং মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক হোসেন।
এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী তন্ময় পাল ও ঋষিকেশ, বিভিন্ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এবং পানি ব্যবস্থাপনা অ্যাসোসিয়েশনের ইয়াসিন, মতিন সরকার, শরিফ উল্লাহ দর্জিসহ অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি উদ্যোক্তা পরিষদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি মেহেদী হাসান লিটন, সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন খান রনি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পারভেজ সরকার ও মো:- টিপু সুলতান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল শিকদার, অর্থ সম্পাদক রিয়াদ প্রধান এবং প্রচার সম্পাদক জসীমউদ্দীনসহ স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম চালু এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী মৌসুমজুড়ে পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হয়।