
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
ছোটখাটো নেতিবাচক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ প্রচারের সমালোচনা করতে গিয়ে কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মন্তব্য করেছেন, "মিডিয়া কখনো কখনো সন্ত্রাস হয়ে যায়।" তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাঝে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রৌমারী উপজেলা সম্মেলন কক্ষে রৌমারী ও চর রাজিবপুর উপজেলার সার ডিলার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে মোখলেছুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, তুচ্ছ ও নেতিবাচক ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে ভাইরাল করার কারণে সরকার বিব্রত ও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা যারা প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চাই, তাদের ক্ষেত্রে মিডিয়া কখনো কখনো সন্ত্রাস হয়ে দাঁড়ায়।"
সম্প্রতি রাজিবপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সারের কোনো সংকট নেই এবং দিনভর সেখানে নিয়ম অনুযায়ী সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে সেই ইতিবাচক বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সার লুট’ হওয়ার মিথ্যা তথ্য ভাইরাল করা হয়েছে। সংবাদ প্রকাশে সবসময় নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এলাকায় সারের সঠিক বার্তা পৌঁছাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করার পরামর্শ দেন তিনি।
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরবর্তীতে মোখলেছুর রহমান বলেন, "আমার কথার মূল উদ্দেশ্য ছিল—ইতিবাচক সংবাদকে বাদ দিয়ে শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো ফুটিয়ে তোলার প্রবণতা বন্ধ করা। ‘সন্ত্রাস’ শব্দটি দিয়ে আমি কী বোঝাতে চেয়েছি, তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।"
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে তিনি বলেন, "তিনি যদি সত্যিই এমন বক্তব্য দিয়ে থাকেন, তবে তা অনুচিত হয়েছে। তবে একই সাথে সারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না জেনে সংবাদ পরিবেশন করাও সমীচীন নয়।"
উল্লেখ্য, রৌমারী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম (এনডিসি) এবং সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সারের ডিলার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।