
জাকের হোসেন, হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াসহ সারা দেশে কিশোর-কিশোরীদের নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্প’। প্রায় ৭ বছর ধরে এই প্রকল্পের অধীনে সংগীত শিক্ষক, আবৃত্তি শিক্ষক ও জেন্ডার প্রমোটরসহ প্রায় ১১ হাজার জনবল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
প্রকল্পের আওতায় কিশোর-কিশোরীদের সংগীত ও আবৃত্তি শিক্ষার পাশাপাশি লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ও সহিংসতা দূরীকরণ, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং যৌতুক ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় কাজ করছেন কর্মীরা। এমনকি দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক কার্যক্রমে বিনা পারিশ্রমিকে দায়িত্ব পালন করে সরকারের বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে আসছেন তারা।
তবে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কাজ করলেও আজ পর্যন্ত তাদের চাকরির স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। কর্মীদের একাংশ জানান, এরই মধ্যে অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা পার হয়ে গেছে। ফলে ১১ হাজার কর্মী ও তাঁদের পরিবার বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কিশোর-কিশোরী ক্লাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাইফুল ইসলাম বাঁধন বলেন, "কিশোর-কিশোরী ক্লাব অবিলম্বে জাতীয়করণ করতে হবে। আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আর কোনো তালবাহানা সহ্য করা হবে না।"
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক শিক্ষক মঞ্জুর হোসেন বলেন, "আমরা সাত বছর ধরে কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে নিরলস কাজ করছি, অথচ সরকার আমাদের চাকরির কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। জাতীয়করণের স্পষ্ট ঘোষণা ও সরকারি গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।"
দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হলে সারা দেশের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সচিবালয় অভিমুখে অবস্থান ও ঘেরাওয়ের মতো কঠোর কিন্তু শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।