
উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় হত্যা মামলা আপস করার হুমকির জেরে প্রায় ২২ বিঘা জমির প্রায় ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন হোসেন (৩০) নামের এক যুবককে আটক করেছে থানা পুলিশ।
গত বুধবার (অথবা নির্দিষ্ট রাতে) উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের গোপীনগর পানবোরাম গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আটক তুহিন হোসেন উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শ্যামবাটি গ্রামের বাসিন্দা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, বুধবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা তার কলাবাগানে ঢুকে প্রায় ২২ বিঘা জমির ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে ফেলে। প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছিল এবং আগামী তিন মাসের মধ্যে সেগুলো বাজারজাত করার উপযোগী হতো। হঠাৎ রাতের আঁধারে এমন ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে তার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরেই এই পরিকল্পিত নাশকতা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পানবোরাম এলাকায় মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা বলেন, একজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে কায়িক পরিশ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ করে এই বাগান গড়ে তুলেছিলেন। ফলন আসার ঠিক আগমুহূর্তে গাছগুলো কেটে ফেলায় তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
সংবাদ পেয়ে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাগান ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার খোঁজখবর নেন।
এ বিষয়ে ওসি নিয়ামুল হক জানান, এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন হোসেন নামে এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।