প্রিন্ট এর তারিখঃ অগাস্ট ৯, ২০২৬, ৪:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ আগস্ট ৯, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
শাহরাস্তিতে মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৫

মোসাদ্দেক হোসেন জুয়েল
শাহরাস্তিতে মসজিদ পরিচালনা কমিটির বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের ৫ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) জুমার নামাজের পর উপজেলার মেহার উত্তর ইউনিয়নের দেবিপুর জামে মসজিদে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের বিবরণ
- প্রথম পক্ষ: আলমগীর হোসেন সুমন (৩৪), পিতা মৃত আমির হোসেন; মো. শামীম (৪১), পিতা মো. দেলোয়ার হোসেন; এবং বেলাল (২৬), পিতা মো. শাহজাহান (সকলের গ্রাম: দেবিপুর)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়।
- দ্বিতীয় পক্ষ: নাজমুল হুদা (৭০), পিতা মৃত সেকান্দর আলী এবং তাঁর ছেলে মিনহাজুল হুদা (৩২)। কুমিল্লায় রেফার করা হলেও নাজমুল হুদা চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য
- অভিযোগকারী পক্ষের মুসল্লি রুবেল খন্দকার জানান: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও নাজমুল হুদা নিজেকে মসজিদের স্বঘোষিত সভাপতি দাবি করে বক্তব্য দিতে গেলে স্থানীয় একাধিক মুসল্লি তাঁকে বক্তব্য না দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় নাজমুল হুদার ছেলে মিনহাজুল হুদা তাঁর লোকজন নিয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মুসল্লি আলমগীর হোসেন সুমন, মো. শামীম হোসেন ও বেলাল হোসেন আহত হন। তাঁদের প্রথমে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
- অভিযুক্ত পক্ষের মিনহাজুল হুদা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান: মসজিদটি আমাদের বাপ-দাদারা প্রতিষ্ঠা করেছেন। গত ৩০ বছর যাবৎ মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি উপজেলা পর্যায়ের নেতা ও স্থানীয় মুসল্লিদের সমন্বয়ে একজন নতুন ইমাম নিয়োগ দেওয়া হয়। ঘটনার দিন পূর্বের ও বর্তমান নিয়োগকৃত ইমামদের বিষয়ে জুমার নামাজ শেষে আমার বাবা নাজমুল হুদা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গেলে একটি পক্ষ বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে আমার বাবা ও আমি আহত হই এবং আমরা চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছি।
অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বক্তব্য
ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম রনি জানান, তিনি ওই মসজিদের মুসল্লি নন এবং দুর্ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন। এই বিষয়ের সঙ্গে জড়িয়ে এলাকার একটি মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে উল্লেখ করেন এবং যারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানান।
অন্যদিকে, শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে এবং তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদের মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিরোধ ও সংঘর্ষ এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.