
মোঃ হামিদুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী চর নারায়ণপুর ও ধনিরামপুরে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে ৮৫ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় প্রায় ৯৫০ মিটার ভারতীয় প্যান্টপিস ও ৬০ কেজি জিরা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কচাকাটা থানার একটি চৌকস দল গত শুক্রবার রাতে চর নারায়ণপুর এলাকায় অভিযান চালায়। ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা জেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে সারাদিন নদীতে অবস্থান করেন। পরে রাতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মো. দুলু মিয়াকে (৪৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একই চক্রের মো. হানিফ মিয়া (৩৮) ও মো. জাকির আলী (৩৬) ভারতীয় সীমান্তের দিকে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তার দুলু মিয়ার বাড়ি নারায়ণপুর ইউনিয়নের চৌদ্দঘুড়ি এলাকায়।
অপরদিকে, একই দিন বিকেলে নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাধীন চর ধনিরামপুর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ধনিরামপুর গ্রামের মো. খয়বর আলীর বাড়ির পেছনে নদীসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে ভারত থেকে চোরাই পথে আনা পণ্য মজুদ করা হয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা বেশ কয়েকটি বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯৫০ মিটার বিমল ব্র্যান্ডের ভারতীয় প্যান্টপিস (আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা) এবং ৬০ কেজি জিরা (মূল্য ৩৬ হাজার টাকা) উদ্ধার করা হয়।
ধনিরামপুরের ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক ৫ চোরাকারবারির নাম-ঠিকানা শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—মো. মিজানুর রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর (২৫), মো. জুল হক (২৮), মো. নুর আলম (৩৫) ও মো. জহুরুল ইসলাম (৩৫)। সকলের বাড়ি ধনিরামপুর গ্রামে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার বিশ্বাস বলেন, "মাদক ও চোরাচালান রোধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।"
সার্কেল এএসপি মুনতাসির মামুন মুন জানান, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো মাদক ও চোরাচালানের নিরাপদ জনপদ হতে দেওয়া হবে না। পলাতক অপরাধীদের যেকোনো মূল্যে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
পুলিশ জানায়, পলাতক মাদক কারবারি হানিফ ও জাকিরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া ধনিরামপুরের পলাতক ৫ চোরাকারবারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর অধীনে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে এবং গ্রেপ্তার দুলু মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধারকৃত সমস্ত মালামাল জব্দ করা হয়েছে।