
শফিকুল ইসলাম শফিক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১ নম্বর উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন এবং সংশোধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে চরম অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও সরকারি নির্ধারিত ফি-র চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিষদে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত দেখা না মেলায় জন্মনিবন্ধন, সংশোধন ও প্রত্যয়নপত্রের মতো জরুরি সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে। কোনো কোনো দিন পরিষদ কার্যালয় পুরোপুরি তালাবদ্ধ থাকে বলেও তারা জানান। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, জন্মনিবন্ধন ও সংশোধনের জন্য সরকারনির্ধারিত ফি-র অতিরিক্ত প্রতি আবেদনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ইউপি চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদার অসুস্থ থাকার সুযোগে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম একই সঙ্গে মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদেরও অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় তাকে নিজ কর্মস্থলে নিয়মিত পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা মানিক মিয়া বলেন, “পরিষদের পাশেই আমার বাড়ি। আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই এটি বন্ধ দেখতে পাই। সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের অফিসে না পেয়ে মানুষ সেবা না নিয়ে ফিরে যান। চেয়ারম্যান অসুস্থ থাকায় একশ্রেণীর লোক এ পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। জন্মনিবন্ধনের জন্য মানুষকে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, “প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলায় যেতে হয়। তা ছাড়া সদর ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকায় সবসময় এখানে উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। তবে সেবা সচল রাখার চেষ্টা করা হয়। লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।”
পরিষদের গ্রাম পুলিশ শামসুদ্দিন জানান, তিনি সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা বা কাগজপত্র নিয়ে অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর শুভ সরকারের কাছে জমা দেন। তবে শুভ সরকার অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি নির্ধারিত ফি-র বাইরে কোনো টাকা গ্রহণ করি না। কেউ প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
এদিকে অসুস্থ চেয়ারম্যান নুর নবী তালুকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সহধর্মিণী ফোন ধরে জানান, চেয়ারম্যান সুস্থ হয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে ফেরামাত্রই এসব বিষয় খতিয়ে দেখবেন এবং সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবেন।
বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করা হলে মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায় বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ এবং পরিষদে স্বচ্ছ ও নিয়মিত জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।