
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
পটুয়াখালীতে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ‘দৈনিক জনতার খবর’ পত্রিকার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মো. আবুল কালাম আজাদ। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় পটুয়াখালী জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২৩ জুলাই লোহালিয়া ইউনিয়নের শরীফ বাড়ির সত্তার শরীফের একটি অসুস্থ গরু কাশিপুর বাজারের ‘ভাই ভাই মাংস বিতান’-এর মালিক মঞ্জুরুল হাওলাদার এবং ‘সাকিল মাংসের দোকান’-এর মালিক হারুন হাওলাদারের কাছে ৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে জানা যায়, গরুটি দীর্ঘদিন ধরে পচন রোগ, খুরা রোগ ও লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি)-তে আক্রান্ত ছিল। ২৪ জুলাই সকালে গরুটি জবাই করে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়।
তিনি বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্যানিটারি অফিসারকে বিষয়টি অবগত করেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা গরুটি অসুস্থ থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পুনরায় অবহিত করলে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ওই গরুর মাংস বিক্রি বন্ধ করা হয়। একই দিন বিকেলে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ও জেলা স্যানিটারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পুনরায় ঘটনাস্থলে গেলে ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালায়।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করেন, হামলার সময় ফয়সাল মালিক, সজিব মালিক, সোবাহান মালিক এবং সোহাগ জোমাদ্দার প্রথমে তাঁকে মারধর করেন এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ভিডিও অপপ্রচার চালান। এছাড়া রব জোমাদ্দারের ছেলে আজগর জোমাদ্দার তাঁর পকেট থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। আহত সাংবাদিক দাবি করেন, ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোনটি এখনো তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কারণেই তাঁর ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এ রকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ঘটনাস্থলে তাঁর সঙ্গে থাকা সরকারি কর্তাব্যক্তিরাই তার সত্যতা জানেন এবং তাঁরা সবকিছু দেখেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালীর বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।