
সুভাস দাস, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১৩ বছর আগে ২০১৩ সালে সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ধসের পর দেশের বিভিন্ন সরকারি ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে পটুয়াখালী জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে ভাড়া করা ভবন ও টিনশেড কক্ষে পরিচালিত হচ্ছে এর যাবতীয় কার্যক্রম। ফলে একদিকে সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে শত শত পুরোনো দলিল, রেজিস্ট্রি খাতা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে বহু মূল্যবান নথি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক নথির কাগজ আর্দ্রতায় বিবর্ণ হয়ে পড়েছে এবং কিছু নথির অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য উদ্ধার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিদিন জমি রেজিস্ট্রি, দলিল সম্পাদন, নকল উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবার জন্য জেলার দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এই কার্যালয়ে আসেন। তবে সংকীর্ণ ও অস্থায়ী পরিবেশের কারণে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ফাইল খুঁজে বের করা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় পদে পদে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
আউলিয়াপুর থেকে আসা সেবাপ্রার্থী হালিমা বেগম জানান, তিনি বাবার জমির দলিলের তথ্য নিতে এসে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নথি পেলেও সংরক্ষণের অভাবে কাগজের একাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সঠিক তথ্য পেতে গত প্রায় তিন মাস ধরে তাকে দফায় দফায় অফিসে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
একই আক্ষেপ ব্যক্ত করে লাউকাঠী এলাকার মো. আসলাম বলেন, "দাদার জমির কাগজ তুলতে এসে গত ১৫ দিন ধরে ঘুরছি। বৃষ্টির পানিতে নথির একাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় তথ্য মিলছে না। ফলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার যেতে হচ্ছে।"
সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, নাগরিকদের সম্পত্তির মালিকানার প্রমাণ ও রাষ্ট্রীয় রেকর্ডের নিরাপত্তার স্বার্থে অবিলম্বে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও স্থায়ী ভবন নির্মাণ করা জরুরি। এসব নথি বিনষ্ট হলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা, ভূমি বিরোধ এবং জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
জেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন জানান, ভবনের তীব্র সংকট ও নথি সংরক্ষণের সমস্যার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। একটি নতুন ভবন নির্মিত হলে সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি সরকারি নথিগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অফিশিয়াল কাজে জেলার বাইরে থাকায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।