
উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও র্যাবের সহযোগিতায় নাটোরের সিংড়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা কুখ্যাত গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়।
গত কয়েক সপ্তাহে নওগাঁর রাণীনগর, আত্রাই, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলায় বেশ কয়েকটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকটি চৌকস দল গঠন করা হয়।
গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে গত ১৪ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা এবং রাণীনগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২১ জুলাই রাতে র্যাব-বগুড়ার সহায়তায় জেলা গোয়েন্দা শাখা কুখ্যাত গরু চোর গোলাম রাব্বানীকে বগুড়া থেকে গ্রেফতার করে।
এরপর পুলিশ সুপার নওগাঁ এবং অধিনায়ক, র্যাব-বগুড়ার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে গোলাম রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়ায় যৌথ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। পুলিশ সুপার নওগাঁর নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ হাসিব এবং রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়ার নেতৃত্বে একটি দল গভীর রাতে নাটোরের সিংড়ায় পাঠানো হয়। সেখানে নাটোর থেকে র্যাবের একটি টিম নওগাঁ জেলা পুলিশের সাথে যুক্ত হয়।
প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে নাটোরের সিংড়ার হাত তাজপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাত শ্রী সুজিত ওরফে অজিত চন্দ্র হালদার (৪০, পিতা: পতিত চন্দ্র হালদার) এবং শ্রী সুচন্দন বংশী ওরফে সজলকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রটি নওগাঁ, নাটোর, ময়মনসিংহ ও বগুড়া কেন্দ্রিক এলাকায় গরু চুরি ও ডাকাতির সাথে জড়িত। নাটোরে গ্রেফতার হওয়া সুজিত ও সুচন্দন এলাকায় গরুর ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। মূলত বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি বা ডাকাতি করা গরু সেখানে কিছুদিন লালন-পালন করার পর বিক্রি করা হতো।
প্রাথমিক পর্যায়ের অভিযানে ৩ জন এবং সাম্প্রতিক অভিযানে আরও ৩ জনসহ এ পর্যন্ত এই চক্রের মোট ৬ জন কুখ্যাত গরু চোর ও ডাকাতকে নওগাঁ জেলা পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, "কৃষকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হলো গরু। এই গরু চোরদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।