
তেরখাদা (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আর বি আজগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রমে দুর্ভোগের অন্ত নেই। বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমা, ভবনের টিনের ছাদ দিয়ে অবিরাম পানি পড়া, ফ্লোরে জলাবদ্ধতা এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটসহ নানাবিধ সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যালয়টির সেমিপাকা ভবনের টিনের ছাদে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে অবিরাম পানি পড়ে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাথায় পানি পড়ার পাশাপাশি বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যাচ্ছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যা চললেও ভবন সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই পাঠদান ও পাঠগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় মাঠের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টির পানি জমে মাঠটিতে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঠ পেরিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পিচ্ছিল মাঠে পড়ে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর জামাকাপড় ও শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেকে আহতও হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষকদের একমাত্র অফিস রুমের ছাদ থেকেও বড় বড় পলেস্তারা খসে পড়ছে, ফলে শিক্ষকরা চরম ঝুঁকি নিয়ে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫৭ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অধ্যয়ন করছে এবং প্রধান শিক্ষকসহ ৯ জন শিক্ষক পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। নানান সংকটের মাঝেও বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান বেশ সন্তোষজনক। এ বছরও এই বিদ্যালয় থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে এবং ১ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে মধুপুর ক্লাস্টারে সেরা ফলাফল অর্জন করেছে। তবে অবকাঠামোগত সংকট, বেঞ্চের অভাব এবং জলাবদ্ধতার কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের টিনের ছাদ সংস্কার, স্থায়ী ভবন নির্মাণ এবং মাঠের পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এম এম মতিয়ার রহমান বলেন, "বিদ্যালয়টিতে বেশ কয়েক বছর ধরে নানাবিধ সমস্যা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের মাঠটি আগে আরও নিচু ও অসমতল ছিল, যা কিছুটা নিরসন হয়েছে। এছাড়া তেরখাদা-খুলনা সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারি না থাকলেও সম্প্রতি তা নির্মাণ করা হয়েছে, ফলে শিক্ষার্থীরা এখন কিছুটা নিরাপদ অবস্থানে আছে।" তিনি আরও জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য খুব দ্রুত ওপরের মহলে চাহিদা পাঠানো হবে এবং ভবন অনুমোদনের জন্য জোরালো চেষ্টা চলছে।