
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: শফিকুল ইসলাম শফিক
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। সংগঠনটির উদ্যোগে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ২ নম্বর দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমানিপুর গ্রামে বন্যাদুর্গত ৩০টি অসহায় পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার ও জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সোলাইমান মিয়া ও মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবুর নির্দেশনায় এ মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
বিতরণকৃত ত্রাণসামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে ছিল চিড়া, মুড়ি, চিনি, খাবার স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ। বন্যার কারণে খাদ্যসংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে এসব সামগ্রী তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সাংবাদিক মো. কাইয়ুম বাদশাহ, দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সোলাইমান মিয়া বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও দেশের যেকোনো দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ থাকবে।"
কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, "মানুষ মানুষের জন্য। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ যদি একটি পরিবারেরও কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে পারে, সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।"
কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ সবসময় মানবিক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে। মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে অব্যাহত থাকবে।"
স্থানীয় সাংবাদিক মো. কাইয়ুম বাদশাহ বলেন, "বন্যার কারণে এই অঞ্চলের অনেক পরিবার এখনও চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এমন মানবিক উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।"
ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে পাওয়া শুকনা খাবার, খাবার স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।