
উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁয় গত ছয় মাসে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় দুই কোটি পাঁচ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ। একই সময়ে মাদক কারবারি ও সেবনকারীসহ মোট ৭৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করে জেলা পুলিশ এসব আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও জেলার ১১টি থানার পুলিশ সদস্যরা এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নওগাঁয় যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। জেলাকে মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালানো হয়েছে। বিশেষ করে শহরের মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘নুনিয়া পট্টি’সহ বিভিন্ন স্পটে সফল অভিযানের মাধ্যমে বেশ কয়েকজন মাদক সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করাই ছিল এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ছয় মাসে উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে—৪৮৬ গ্রাম হেরোইন, ৬২৮ বোতল ফেনসিডিল, ৪ হাজার ২৩৯ পিস ইয়াবা, ২২৩ কেজি ১৯ গ্রাম গাঁজা ও ১৯ কেজি গাঁজা গাছ, ১ হাজার ১৬ পিস অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ৮ হাজার ৭৮ লিটার চোলাই মদ ও তৈরির উপকরণ ৩ হাজার ২৯৬ লিটার, ৪ লিটার বিদেশি মদ এবং ১৯ হাজার ৬৪৪ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট। উদ্ধারকৃত এসব মাদকের বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪০ টাকা।
পুলিশ আরও জানায়, এসব ঘটনায় ৩৯৪টি নিয়মিত মামলায় ৫২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ১৭২টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২০৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল এবং সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হাসিবুল্লাহ হাবিব বলেন, অপরাধ দমনের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশের মাদকবিরোধী এই চলমান প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলাকে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। আমরা নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে প্রতিনিয়ত মতবিনিময় সভা করছি। মাদক কারবারিরা যেন পুনরায় সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।