
মো. জাকের হোসেন,হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণ এবং সাগরে সৃষ্ট প্রবল জোয়ারের প্রভাবে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। মেঘনা নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বেশ কিছু স্থানে বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে, যা এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের বসতঘর, রান্নাঘর, আঙিনা ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ। এছাড়া ডুবে গেছে শত শত মাছের ঘের ও পুকুর।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও পরিস্থিতি:
নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে জোয়ারের তোড়ে দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে। প্রধান সড়কের বড় একটি অংশ পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে হাতিয়া পৌরসভা, তমরদ্দি, নলচিরা, সোনাদিয়া, জাহাজমারা, চরঈশ্বর, সুখচর, হরনী ও চানন্দী ইউনিয়নে।
পরীক্ষা স্থগিত:
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বুধবার থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের সব বিদ্যালয়ের ষান্মাসিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ.এন.এম হাসান।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
তীব্র স্রোতে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত হওয়ায় বড় ধরনের জলোচ্ছ্বাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাসেল ইকবাল জানিয়েছেন, পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি ত্রাণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিস ও স্থানীয়দের শঙ্কা, এভাবে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।