
উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোয়ার্টারে ১৯৪৭ সাল থেকে দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে বসবাস করে আসা ভূমিহীন হরিজন সম্প্রদায়ের ওপর নেমে এসেছে উচ্ছেদের খড়গ। গত ১ জুলাই, ২০২৬ বুধবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে একটি নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে উক্ত পরিবারগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারি কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশের প্রেক্ষাপট:
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়েছে, উক্ত কোয়ার্টারে বসবাসকারীরা দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা পরিচালনা এবং অবৈধভাবে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিগত ছয় মাস ধরে মৌখিকভাবে কোয়ার্টার খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, সেখানে আনসার সদস্যদের আবাসনের জন্য ভবনগুলো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং আগামী ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখের মধ্যে জায়গা খালি না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার ও অসহায়ত্ব:
এদিকে, নোটিশে উল্লিখিত মাদক ব্যবসা ও অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন বসবাসরত হরিজন পরিবারগুলো। তারা দাবি করেছেন, তাদের সম্প্রদায়ের কেউ এ ধরনের কোনো অপরাধমূলক বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত নন। দীর্ঘ প্রায় আট দশক ধরে এখানে বসবাস করলেও বিকল্প কোনো বাসস্থান না থাকায় এই আকস্মিক উচ্ছেদ নোটিশ তাদের জীবনকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশাসনের কাছে আবেদন:
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, নওগাঁ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
বর্তমানে পুরো হরিজন সম্প্রদায় প্রশাসনের মানবিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রান্তিক ও ভূমিহীন এই জনগোষ্ঠীর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।