
শফিকুল ইসলাম শফিক, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের মহিষখলা গ্রামের দৃষ্টিহীন মাওলানা আবু সাঈদ ও তার তিন ভাইবোনের মানবেতর জীবনের ওপর প্রকাশিত সংবাদটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই মানবিক সংকট লাঘবে এগিয়ে এসেছেন মালদ্বীপ প্রবাসী ও মধ্যনগরের কৃতি সন্তান মো. বাবুল মিয়া।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক মহিষখলা গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে প্রবাসী বাবুল মিয়ার পক্ষ থেকে পাঠানো আর্থিক সহায়তা তাদের হাতে তুলে দেন।
দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন দৃষ্টিহীন মাওলানা আবু সাঈদ ও তার ভাইবোনেরা। তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তা দেশ-বিদেশের অনেকের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে প্রবাসী বাবুল মিয়া পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সহায়তা গ্রহণ করে মাওলানা আবু সাঈদ ও তার ভাইবোনেরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বাবুল মিয়ার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এই সহায়তা আমাদের কঠিন সময়ে বড় একটি স্বস্তি নিয়ে এসেছে। মানবিক মানুষের প্রতি আমাদের আস্থা আরও দৃঢ় হলো।”
এ বিষয়ে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যই ছিল পরিবারটির দুর্দশা সবার সামনে তুলে ধরা। একজন প্রবাসীর এই আন্তরিক সহযোগিতা প্রমাণ করে যে, মানবতা আজও বেঁচে আছে। সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসীরা যদি এগিয়ে আসেন, তবে এই পরিবারটির স্থায়ী পুনর্বাসন সম্ভব হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল প্রবাসী বাবুল মিয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে সমাজের সক্ষম ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সহায়তা ও সহমর্মিতা পেলে পরিবারটি আগামীতে স্বাভাবিক ও সম্মানজনক জীবন ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।