বগুড়া প্রতিনিধি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আমিনপুর পুরাতন কলোনী গ্রামে সেলিম (৩৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ‘আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা’—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত সেলিম রংপুর জেলার কুতুবপুর (কুতবআলী) থানার ওমরকুটি গ্রামের জয়নালের ছেলে। তিনি স্ত্রী মোছা. রোকসানা ওরফে আফরোজা, শাশুড়ি রহিমা বেগম এবং তিন সন্তানকে নিয়ে ওই গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
ঘটনাস্থলের বর্ণনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেলিমের ঘরের দরজা খোলা না দেখে তার সাথে কাজ করা এক রাজমিস্ত্রী সন্দেহ পোষণ করেন। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে সেলিমকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তিনি। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মরদেহটি যেভাবে ঝুলছিল তাতে পা মেঝেতে ভাঁজ হয়ে ছিল। এ কারণে তাদের অনেকের সন্দেহ, এটি আত্মহত্যা না-ও হতে পারে। পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
খবর পেয়ে শেরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনউদ্দিন বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।