বগুড়া প্রতিনিধি:
আমাদের সমাজে অনেকেই নিজেদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, তার বিপরীতে কিছু মানুষ নিরলসভাবে কাজ করে যান আর্তমানবতার সেবায়। নিজের কথা না ভেবে দিন-রাত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এমনই একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামের রাফি আল আমিন। তিনি অত্র এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের কাছে আজ এক ভরসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
নিঃস্বার্থ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত
গত কয়েক বছর ধরে শেরপুরের খানপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাফি আল আমিনের মানবিক কার্যক্রম স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। তীব্র শীতের রাতে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রমজান ও ঈদে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, কিংবা অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "যখন আমাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকে না, তখন রাফি আল আমিন ভাই আমাদের কাছে ত্রাতা হয়ে আসেন। তিনি কোনো নেতার মতো নয়, বরং ঘরের ছেলের মতোই আমাদের বিপদে সাড়া দেন।"
কাজের পরিধি ও অবদান
রাফি আল আমিনের উদ্যোগগুলো কেবল সাময়িক সাহায্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্যও কাজ করে যাচ্ছেন। তার কার্যক্রমের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
"স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর সমাজের"
নিজের মানবিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাফি আল আমিন বলেন, "আমি কোনো নাম বা খ্যাতির জন্য এই কাজ করি না। মনের তাগিদ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়াই। আমাদের চারপাশে বহু মানুষ অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায়। আমরা প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই, তবে সমাজে অভাব থাকবে না। আমি আমৃত্যু এই অসহায় মানুষগুলোর মুখে হাসি ফুটিয়ে যেতে চাই।"
তার এই নিঃস্বার্থ পথচলা সমাজের বিত্তবান এবং তরুণ প্রজন্মকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। রাফি আল আমিনের মতো মানুষেরা সমাজে বেঁচে থাকুক এবং তাদের হাত ধরে মানবতার আলো ছড়িয়ে পড়ুক—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।