|| ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের ফুটবল লড়াই: ট্রফি জিতল টিম ইউরেনিয়াম
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ মে, ২০২৬
শফিকুল ইসলাম শফিক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
‘ব্যস্ত জীবনে দেখা হয় না, তাই খেলার মাঠে সবাই এক হই’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মোহনপুর বিজিবি ক্যাম্পের উত্তর পাশে, সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ের পাদদেশে অনুষ্ঠিত হলো মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-২) এর ফাইনাল ম্যাচ। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ টাইব্রেকারের মাধ্যমে পর্দা নামল জমজমাট এই আসরের।
মধ্যনগর উপজেলার ১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের স্বনামধন্য মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে ২০২১-২২ ব্যাচের নিউক্লিয়াস দলকে পরাজিত করে ২০১৭-১৮ ব্যাচের ইউরেনিয়াম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। রানার্সআপ হয় নিউক্লিয়াস। *চ্যাম্পিয়ন ইউরেনিয়াম দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক শিক্ষার্থী সোহেল রানা।*
ফাইনালে ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ এবং ম্যান অফ দ্যা সিরিজ এর পুরস্কার প্রদান করা হয় *২০১০ ব্যাচের সকল শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী মাহফুজ আহমেদ এর নিজস্ব অর্থায়নে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে মোট ৯টি দল অংশ নেয়। দলগুলো হলো— ইউনাইটেড এলিট (১৯৯৮-২০১০), থান্ডার বয়েজ (২০১১-১২), ডমিনেটর (২০১৩-১৪), মনস্টার এফসি (২০১৫-১৬), ইউরেনিয়াম (২০১৭-১৮), রিঅ্যাকটিভ ফোর্স (২০১৯-২০), নিউক্লিয়াস (২০২১-২২), ভিক্টরি কিংস (২০২৩-২০২৪) এবং টাইটানিয়াম কিংস (২০২৫-২০২৬)।
টুর্নামেন্টের সফল আয়োজন ও পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সজল আমীন রাব্বী, মো. আশিক মিয়া।
টুর্নামেন্ট আয়োজনে তাদের সার্বিক সহযোগিতা করেন আমিমুল এহসান, সেনারুল ইসলাম সৌরভ, রিয়াদুল ইসলাম পলাশ, আজিম মাহমুদ, শাহরিয়ার রিপন, মোজ্জাফর আহমেদ, শহিদুল ইসলাম, মাহফুজ আহমেদ, ডা. আল আমিন, জাকির হোসেন, আনোয়ার হোসেন, সোহেল রানা,মুল্লোক চান।
চ্যাম্পিয়ন ইউরেনিয়াম দলের সদস্য এবং আয়োজক কমিটির সদস্য সজল আমীন রাব্বী বলেন, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধন আরও দৃঢ় করা। সবাই নিজ নিজ কর্মব্যস্ততায় ছড়িয়ে থাকলেও এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আবার একত্রিত হওয়ার সুযোগ পাই। একই সঙ্গে আমাদের ইউনিয়ন ও বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যও নতুনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছি।”
পাহাড়ঘেঁষা মাঠটি দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। ফাইনাল ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উত্তেজনার ছাপ। বিশেষ করে টাইব্রেকারে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও সমর্থনে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সমাপ্ত হয় টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় আসর।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.