|| ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
হিন্দু আইন সংস্কার কতটা যৌক্তিক? — ব্যারিস্টার পলব আচার্যের বিশ্লেষণ
প্রকাশের তারিখঃ ৩০ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে হিন্দু ব্যক্তিগত আইন সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে উত্তরাধিকার, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং নারীর সম্পত্তির অধিকার বিষয়ে বিদ্যমান আইন আধুনিক সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠছে।
এ বিষয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার পলব আচার্য মনে করেন, হিন্দু আইনের অনেক বিধান শতাব্দীপ্রাচীন সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। তবে বর্তমান সমাজে পারিবারিক কাঠামো, নারীর ভূমিকা এবং মানবাধিকার বিষয়ে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ফলে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদ, নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ করে নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সম্প্রদায়ের অনুভূতির প্রতিও যথাযথ সম্মান দেখিয়ে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
ব্যারিস্টার পলব আচার্যের মতে, আইন সংস্কারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা। কোনো সংস্কার যেন ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে, বরং সমাজের বাস্তব চাহিদা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, আইনজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। সকল পক্ষের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দু আইন সংস্কার প্রশ্নে মতপার্থক্য থাকলেও নারীর অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।
DBO NEWS
বিশেষ প্রতিবেদন
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.