বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর মহাসড়ক সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গভীর রাতে এক অসহায় কিশোরীকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। তবে এই কিশোরীকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে শেরপুর থানা পুলিশের ‘অসহযোগিতামূলক’ আচরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত কিশোরীটি তার স্বজনদের কাছে ফিরতে পারলেও এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার গভীর রাতে। প্রায় ১১টার দিকে শেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি দোকানের বারান্দায় একা বসে থাকতে দেখা যায় ১০-১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে। পথচারীরা তাকে এড়িয়ে গেলেও স্থানীয় যুবক জাফর, মুজাহিদ, তনু, সাব্বির ও সবুজ তার কাছে গিয়ে মানবিক সহায়তার হাত বাড়ান।
কিশোরীর নাম জান্নাতি খাতুন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে চরম অবহেলিত ও নির্যাতনের শিকার। স্থায়ী কোনো আশ্রয় না থাকায় এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে ঘুরে অবশেষে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে।
অসহায় মেয়েটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে দিতে ওই যুবকেরা শেরপুর থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ রয়েছে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন মেয়েটিকে থানায় রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতার অজুহাতে তাকে থানায় রাখা সম্ভব নয় বলে জানান। যুবকদের অভিযোগ, ওসি তাদের নির্দেশ দেন মেয়েটিকে তার আত্মীয়দের খোঁজ করার অথবা নিজেরাই কোথাও ব্যবস্থা করার। এমনকি তাদের ‘রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যেতে’ বলার মতো অমানবিক কথা বলারও অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে কোনো সহায়তা না পেয়ে যুবকেরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমুকে মুঠোফোনে জানান। এরপরও থানা থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। শেষ পর্যন্ত যুবকেরা নিজ উদ্যোগে জান্নাতির মামার বাড়ি অনুসন্ধান শুরু করেন এবং গভীর রাতে শাহবন্দেগী ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামে তার মামার বাড়ির সন্ধান পান। পরে স্বজনদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় মানবিকতা ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শেরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি নিমাই ঘোষ বলেন, “বিপদে পড়লে মানুষ প্রথমেই থানার দ্বারস্থ হয়, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পুলিশের এমন দায় এড়ানো এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ সাধারণ মানুষকে ভবিষ্যতে মানবিক কাজ থেকে নিরুৎসাহিত করবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, “মানবিকতা দেখাতে গিয়ে তো আইনের বাইরে কাজ করা সম্ভব নয়। পুলিশের হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো শিশুকে বা অসহায় ব্যক্তিকে থানায় রাখা যাবে না। তাই তাদের আত্মীয়স্বজনের খোঁজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে আমি মানবিক দিক বিবেচনায় মেয়েটিকে থানা হেফাজতে রাখার জন্য ওসিকে অনুরোধ করেছিলাম। তবে পরবর্তীতে তাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়নি বলে আমি জানতে পেরেছি।”