|| ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩রা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
বাবার পেশা আঁকড়ে ২৫ বছর ধরে কামারশিল্পে উজ্জ্বল
প্রকাশের তারিখঃ ২০ মে, ২০২৬
মো. জাবেদ আহমেদ জীবন, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বেলানগর গ্রামে টুংটাং শব্দে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে দা, চাপাতি, চাকু ও বিভিন্ন লৌহজাত সামগ্রী। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারপাড়ার কারিগররা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাবার ঐতিহ্য ধরে রেখে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কামারশিল্পের কাজ করে যাচ্ছেন উজ্জ্বল দে। তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, “বাবার রেখে যাওয়া পেশাটাই ধরে রেখেছি। যদিও এখন আগের মতো ব্যবসা ভালো না, তবুও বাবার স্মৃতি ও ঐতিহ্যের কারণে এই পেশায় আছি।”
তিনি আরও বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে এখন কাজের চাপ বেড়েছে। আমাদের তৈরি ছুরি, চাকু, চাপাতি ও দার ভালো অর্ডার আসছে। অনেকে সরাসরি এসে কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন। আমার সঙ্গে আরও তিন-চারজন কর্মচারী কাজ করছেন। সব মিলিয়ে এখন বেশ ব্যস্ত সময় কাটছে।”
কামারশালায় কাজ করা কয়েকজন কর্মচারী জানান, কেউ মাসিক বেতনে আবার কেউ দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। তারা বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়ছে। এই গরমে আগুনের পাশে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। কিন্তু সংসার চালাতে কাজ করতেই হয়।”
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে এ গ্রামে কামারশিল্পের চর্চা হয়ে আসছে। আকার ও আকৃতিভেদে একটি চাপাতি তৈরিতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু তৈরিতে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হয়।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.