যীশু সেন, চট্টগ্রাম:
"তবলা কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, এটি মানুষের জীবন, অনুভূতি ও সংস্কৃতির এক চিরন্তন প্রতীক। একজন শিল্পী যখন তবলা বাজান, তখন তিনি শুধু তাল রক্ষা করেন না, বরং নিজের মনের গভীরের ভাব প্রকাশ করেন। গুরু-শিষ্য পরম্পরায় চর্চিত এই শিল্প মানুষের আত্মিক ও সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।" — ‘তালবিন্দু একাডেমি’র প্রথম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, ওস্তাদ জাকির হোসেন ও পণ্ডিত শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো গুণী শিল্পীদের স্মরণ করার মধ্য দিয়ে তরুণ শিল্পীরা অনুপ্রেরণা লাভ করবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের চর্চা ও প্রসার ঘটাতে তালবিন্দু একাডেমির এই আয়োজন চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
তালবিন্দু একাডেমির সভাপতি রূপম চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিল্পপতি ও সংগঠক লায়ন আর. কে. দাশ রুপু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পপতি ও সংগীতশিল্পী রিয়াজ ওয়ায়েজ। এবারের আয়োজনে সংবর্ধেয় অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট তবলাশিল্পী ও তবলাগুরু চন্দন ধর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন:
শিল্পী পার্থ প্রতীম মহাজন ও ইতি সর্ববিদ্যার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তালবিন্দু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্ত্তী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন তালবিন্দু বর্ষপূর্তি উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক অভিজিৎ চৌধুরী এবং সদস্য সচিব রঞ্জন কুমার সেন।
আলোচনা সভা শেষে তালবিন্দু একাডেমির পরিচালক তবলাশিল্পী অমর্ত্য চক্রবর্ত্তীর সার্বিক পরিচালনায় এক মনোজ্ঞ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল তালবিন্দু একাডেমির শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত 'বৃন্দ তবলা লহড়া' পরিবেশনা।
তবলাবাদনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীবৃন্দ:
চিন্ময় চক্রবর্তী, প্রণয় চক্রবর্তী, আদিত্য দাশ, আদিত্য দত্ত, শ্রীমন্ত দে, সুমিত্র দাশ, স্বস্তি দীপন ধর, জয় রায়, জয়তু মল্লিক, তীর্থ নাথ, পিয়াস দে, উৎস দেবনাথ, রাজেশ দে, ঋষভ চক্রবর্তী, সপ্তক ঘোষ, সিদ্ধার্থ চৌধুরী, সৌনক দাশ, শ্রেয়ান ঘোষ, শ্রেয়াণ সৌম্য দাশ, শুভ্র ভট্টাচার্য, অর্জুন চক্রবর্ত্তী, অভিষিক্তা চৌধুরী, দেবরাজ সেন, অভিশান চৌধুরী ও জয়রাজ সরকার প্রমুখ।
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনা:
অনুষ্ঠানে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী লিটন দাশ এবং মোহনবীণায় সুরের জাদু ছড়ান শিল্পী মিটন বিশ্বাস। তাঁদের সাথে তবলায় সঙ্গত করেন শিল্পী সজীব বিশ্বাস এবং হারমোনিয়ামে ছিলেন শিল্পী দীপ্ত দত্ত ও শিল্পী নিলয় দত্ত।
সঙ্গীতের পাশাপাশি নজরকাড়া নৃত্য পরিবেশন করে দুটি নৃত্য দল:
১. সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ডান্স একাডেমি: নৃত্যশিল্পী হিল্লোল দাশ সুমনের পরিচালনায় নৃত্যে অংশ নেন চয়ন, আয়েশা, রাইমা, তিথি, ইশিকা, সৃজীতা, অবনিকা, দিপান্বিতা, শর্মিলা, সৌম্য, অদি, সর্বানি, সমর্পিতা, সভ্যতা, মিথিলা, প্রাচী, রূপসা, ইয়ানা, স্নেহা, অর্পিতা, প্রেয়সী, মালিহা, তাবাসুম, অতন্দ্রিতা ও অর্চিশা।
২. নাট্য শাস্ত্রম: নৃত্যশিল্পী হৃদিতা দাশের পরিচালনায় অংশ নেন কাব্য, রাইমা দাশ, রাত্রি ধর, অর্চিতা দাশ, দিয়া দাশ, তুলতুল চৌধুরী ও অনুরাধা দাশ।
সুর, তাল, লয় আর নৃত্যের এই নান্দনিক মেলবন্ধনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো টিআইসি মিলনায়তন। উপস্থিত সুধীজন ও শ্রোতারা একাডেমির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।