নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া :
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিনামে নামজারি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে লিখে দিতে তিনি ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মির্জাপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ২৭৪ দাগে মোট ১.১৩ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এই জমি নিয়ে সরকার পক্ষে ২১/৭৪ নং মামলায় রায় হওয়ার পর ২০১২ সালে উপজেলা ভূমি অফিস জমিটি পুনরায় খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে। বর্তমানে ওই জমির ওপর ‘মির্জাপুর আম বাগান কওমি হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা’ পরিচালিত হয়ে আসছে।
অভিযোগ পত্রে জানা গেছে, ওই জমিটি বর্তমানে এলএ কেস নং ০২/সাসেক/২০১৮ মূলে সরকার অধিগ্রহণ করেছে এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত মামলা (মিসকেস নং ২৯১/২০২১ ও ২৯০/২০২১) চলমান রয়েছে। মামলা চলাকালীন এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তহশিলদার স্বপ্না খাতুন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দুটি পৃথক নামজারির মাধ্যমে মোট ০.৮৯ একর জমি ব্যক্তিনামে নামজারি করে দেন।
সরকারি জমি এবং এতিমখানার জায়গা এভাবে প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "২৭৪ দাগের জমিটি নিশ্চিতভাবেই সরকারি খাস সম্পত্তি। সেখানে মাদরাসা ও এতিমখানা রয়েছে। টাকার বিনিময়ে এই জমি খারিজ করা হয়েছে বলে শুনেছি। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।"
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের সাথে নামজারি খতিয়ান ও রেজিস্টার-৮ এর অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে। এলাকাবাসী অভিযুক্ত তহশিলদার স্বপ্না খাতুনের অপসারণ এবং অবৈধ নামজারি বাতিলের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছেন।