|| ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
ফরিদপুর সদরপুর উপজেলায় জোসনা বিশ্বাস (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
প্রকাশের তারিখঃ ৩ মে, ২০২৬
ফরিদপুরে প্রতিনিধি।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার তিন দিন পর জোসনা বিশ্বাস (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১ মে ২০২৬) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর গ্রামের শিকদার বাড়ির পুকুরপাড়ে একটি গাব গাছ থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জোসনা বিশ্বাস স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সদস্য।
পারিবারিক ও থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে জোসনা বিশ্বাস নিজ বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে সদরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের ঘটনায় তাঁর মেয়ে সাধনা বিশ্বাস ও ছেলে অমিত বিশ্বাস ঘটনার দিন থেকেই বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং শুক্রবার সকালে সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩০৮) করেন।
নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে গ্রামের দুই শিশু পুকুরপাড়ে খেলতে গিয়ে গাব গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়। শিশুদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আফজাল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং লাশটি উদ্ধার করেন।
এসআই মো. আফজাল হোসেন জানান, “মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
বাড়ি থেকে মূল্যবান স্বর্ণ নিয়ে বের হওয়া এবং তিন দিন পর বাড়ির পাশের এলাকায় ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি ও স্থানীয়দের ধারণা, এর পেছনে কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড থাকতে পারে। স্বর্ণের জন্যই কি তাঁকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, নাকি মানসিক কোনো কারণে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন—তা নিয়ে এলাকায় গভীর রহস্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
#highlights
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.