|| ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
কুড়িগ্রামে ‘ভাওয়াইয়ার কথা, কথার ভাওয়াইয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
প্রকাশের তারিখঃ ১ মে, ২০২৬
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
উত্তরবঙ্গের ভাষা ও ভাওয়াইয়া সংগীত বিষয়ক গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ভাওয়াইয়ার কথা, কথার ভাওয়াইয়া’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান কুড়িগ্রামের ভাওয়াইয়া একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতের লেখকের লেখা এই গুরুত্বপূর্ণ বইটি বাংলাদেশে প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ‘আইডিয়া প্রকাশন’।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি ও প্রকাশক সাকিল মাসুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর আরআরএফ-এর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি), কবি ও গবেষক আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
- লেখক ও প্রাবন্ধিক রেজাউল করিম মুকুল
- ভাওয়াইয়া একাডেমির পরিচালক ও শিল্পী ভূপতি ভূষণ বর্মা
- ‘ফিরে দেখা’র সভাপতি কবি তাপস মাহমুদ
- শিক্ষক ও গবেষক ড. মঈনুল হাসান
- কবি ও সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা
- গীতিকার নীলরতন সরকার
- কবি রেজা হক এবং অ্যাডভোকেট প্রদীপ কুমার রায়সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
বক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অভিমত
বক্তারা ভাওয়াইয়া সংগীতের বর্তমান অবস্থা, সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্যের মূল নির্যাস নিচে তুলে ধরা হলো:
- সাংস্কৃতিক সংকট: গবেষক ড. মঈনুল হাসান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে ভাওয়াইয়া সংগীত কিছুটা বিকৃতির শিকার হচ্ছে।
- মৌলিকত্ব ও আধুনিকায়ন: প্রধান অতিথি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সমাজের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভাওয়াইয়ার আধুনিকায়ন প্রয়োজন, তবে এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই গ্রন্থটি শতবর্ষ পরেও পাঠকদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকবে।
- ভাষাগত সংযোগ: কবি তাপস মাহমুদ উল্লেখ করেন, ভাওয়াইয়ার উন্নয়ন চাইলে এ অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করতে হবে। বৃহত্তর রংপুর, কোচবিহার ও গোয়ালপাড়ার মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে ভাওয়াইয়া অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
- আঞ্চলিক সেতুবন্ধন: লেখক রেজাউল করিম মুকুল বলেন, এই বইটি দুই বাংলার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের শেষে বক্তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, ‘ভাওয়াইয়ার কথা, কথার ভাওয়াইয়া’ গ্রন্থটি উত্তরবঙ্গের ভাষা ও লোকসংস্কৃতি চর্চায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে শেকড়ের সন্ধানে আগ্রহী করে তুলবে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.