রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা না করতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত মো. এনামুল হক উপজেলার ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
ঘটনার বিবরণ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় এনামুল হকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে দলের পক্ষ থেকে ‘পুরস্কার’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এনামুল।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে এনামুল ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর চান। বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে তিনি ওই নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী নারী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য:
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, “ঈদের পরেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে বলে এনামুল বাড়িতে নম্বর নিতে আসে। বাড়িতে কেউ না থাকায় সে আমাকে জড়িয়ে ধরে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে। আমি অনেক কষ্টে নিজেকে রক্ষা করেছি। এখন এই ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সে বলছে কেউ নাকি তার বিচার করতে পারবে না। আমরা গরিব মানুষ, ভ্যান চালাইয়া খাই। আমি এই অন্যায়ের সঠিক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত ও দলের বক্তব্য:
অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা এনামুল হক বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” তবে কী কারণে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন বিষয়টি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দাবি করে বলেন, “হাসি-তামাশা করার এক পর্যায়ে ছেলেটি ওই পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি মনে করেছেন তাকে ধরতে আসছে। বিষয়টি নিয়ে গতকালই মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশের বক্তব্য:
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”