উজ্জ্বল কুমার সরকার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটি ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (ইউপি সদস্য) রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। ইউনিয়নের হাতাশ কালিপুর গ্রামের পানি নিষ্কাশনের খাড়িতে ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে খাড়ির দুই পাড়ের বাঁধ ও আশপাশের ফসলি জমি ধসের হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ:
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দিনের আলো এবং রাতের আঁধারে ওই খাড়ি থেকে বালু তোলা হচ্ছে। রাজ্জাক একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় তাঁর ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ প্রতিবাদ করলেই মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির শিকার হতে হচ্ছে। বালু উত্তোলনে বাধা দিলে অভিযুক্ত সদস্য নিজেকে প্রভাবশালীদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে গ্রামবাসীর মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করেন।
ঘটনাস্থলের চিত্র:
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বালু উত্তোলনের স্থানটি তদারকি করছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজ্জাকের স্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এই বালু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজ্জাক বলেন, “৬ নম্বর দুবলহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল মতিনের রাস্তার কাজের জন্যই এই বালু তোলা হচ্ছে।” তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বিষয়ে অবগত কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সম্ভবত এমপি জানেন না, তবে চেয়ারম্যান জানেন এবং তিনি বুঝেই বালু নিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, বালু ক্রয়কারী সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান বলেন, “আমি টাকা দিয়ে বালু কিনে নিচ্ছি। বালু কোথা থেকে আনা হচ্ছে, সেটা আমার জানার বিষয় নয়।”
প্রশাসনের বক্তব্য:
বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. শাহিন মাহমুদ জানান, হাসায়গাড়ি মৌজায় কোনো নদী নেই এবং সেখান থেকে সরকারিভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
প্রভাবশালীদের দাপটে পানি নিষ্কাশনের এই গুরুত্বপূর্ণ খাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।