যীশু সেন, বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম
বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের ২১ বছর পূর্তি উপলক্ষে চট্টগ্রামের থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সংগীত উৎসব। ২১ এপ্রিল মঙ্গলবার উৎসবের প্রথম দিনে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। ২০০ জন শিল্পীর সম্মিলিত সুরের মূর্ছনায় দর্শক-শ্রোতারা শুদ্ধ সংগীতের এক অনন্য আসর উপভোগ করেন।
উদ্বোধনী দিনের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সংগীত মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। একটি দেশের ইতিহাস, জীবনধারা ও মূল্যবোধ সংগীতের মাধ্যমেই মূর্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা আক্ষেপ করে বলেন, হারানো দিনের সেই সুরেলা সংগীতে যেখানে কথার সঙ্গে সুরের এক অনবদ্য মেলবন্ধন এবং মানবিকতা ও প্রকৃতির নির্যাস ছিল, বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য তুলে ধরা জরুরি।
তারা আরও উল্লেখ করেন, বাগীশ্বরী সংগীতালয় গত দুই দশক ধরে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে কাজ করছে। নতুন প্রজন্ম অতীতের এই সুরধারাকে ধারণ করে ভবিষ্যতের সংগীতকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের প্রখ্যাত সুরকার ও সংগীতশিল্পী আব্দুর রহিম। বাগীশ্বরী সংগীতালয়ের সভাপতি লায়ন কৈলাশ বিহারী সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রিষু তালুকদার।
আবৃত্তিশিল্পী অদিতি সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন:
আলোচনা সভা শেষে শুরু হয় মূল আকর্ষণ—সংগীতানুষ্ঠান। ‘পঞ্চকবি’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও অতুল প্রসাদ সেনের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো পরিবেশন করেন প্রায় দুই শতাধিক শিল্পী।
সম্মিলিত ও একক পরিবেশনায় অংশ নেন অদ্রি সেন, সজীব চৌধুরী, অর্পিতা দাস, সনাতন দাশ, আকাশ দত্ত, অদ্রিতা চৌধুরী, ঋষিক রায়, অংকিতা সেন, অধর দত্ত, বৃষ্টি ঘোষ, ভবতোষ রুদ্র, সৃষ্টি বণিক, প্রিয়ন্তী দাশ, নয়ন গুহ, নিলাদ্রী দাশ, কৈলাশ বিহারী সেন, চুমকী নন্দী, টিসু সেন, রিয়া দাশ, আনন্দ সেন, বর্ণা দে, মনিষা সরকার, রিমন সাহা, উমা সেন, অপূর্ব শীল, তৃষ্ণা দাশ, মম দাশ, স্বস্তিকা নন্দী, তীর্থ শীল, আরাধ্যা চক্রবর্ত্তী, অহর্নিশ সাহা, পুনম দাশ, সুইটি বর্মন, শ্রেয়া দাশ, রাজদীপ দাশ, মৌবনী সেনগুপ্তা, সোহান হোসেন, অমৃতা চক্রবর্তী, পারমিতা চন্দ, ঐন্দ্রিলা চক্রবর্তী, প্রিয়ন্ত দাশগুপ্ত, পৃথুরাজ দাশ দীপ, কোমল ধর, তৃষাগ্নী তালুকদারসহ আরও অনেক শিক্ষার্থী ও শিল্পী।
অনুষ্ঠানে যন্ত্রানুষঙ্গে সহযোগিতা করেন:
দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ২২ এপ্রিল বিকাল ৫টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।