রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর
রংপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখেই সেলাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অপারেশনের পর থেকে দীর্ঘ ৪১ দিন ধরে অসহ্য যন্ত্রণায় ভোগার পর সিটি স্ক্যান রিপোর্টে বিষয়টি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী হাবীবা জান্নাত রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর ইউনিয়নের বড় আমবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। গত ৮ মার্চ নগরীর বন্ধন জেনারেল হাসপাতালে ডা. রাজিয়া বেগম মুক্তার তত্ত্বাবধানে তার সিজার সম্পন্ন হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই তিনি তীব্র পেটব্যথা ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
হাবীবা জান্নাত জানান, যন্ত্রণার কথা চিকিৎসককে জানালে তিনি গুরুত্ব না দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন। রিপোর্টে সমস্যা স্পষ্ট না হওয়ায় ডা. রাজিয়া বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে হাবীবা অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মৌসুমী হাসানের শরণাপন্ন হন। সেখানে সিটি স্ক্যান করানোর পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে, তার পেটের ভেতরে কাপড় জাতীয় কোনো বস্তু রয়ে গেছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী শাওন মিয়া অভিযোগ করেন, বিষয়টি ডা. রাজিয়া বেগম মুক্তাকে জানানো হলে তিনি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে অন্য হাসপাতালে পুনরায় অপারেশনের প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের স্বামী আতিক তাদের এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে হুমকি প্রদান করেন। প্রাণের ভয়ে বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শেষ পর্যন্ত অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে পুনরায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাবীবার পেট থেকে সেই গজ কাপড়টি বের করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ডা. রাজিয়া বেগম মুক্তার চেম্বারে (সান ডায়াগনস্টিক সেন্টার) গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার এক সহযোগী ফোন রিসিভ করে জানান, চিকিৎসক রোগী দেখছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর তিনি ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে রংপুরের জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন:
"বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন অবহেলা কাম্য নয়। ভুক্তভোগী পরিবার আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্ত চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।