|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
হাতিয়ায় শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ৩০ হাজার টাকায় রফাদফা: পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
প্রকাশের তারিখঃ ১১ এপ্রিল, ২০২৬
জাকের হোসেন , নোয়াখালী:-
নোয়াখালীর হাতিয়া পৌরসভায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয় সালিশি বৈঠকে ৩০ হাজার টাকায় মীমাংসা করার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ২১ দিন পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) স্থানীয় ১৭ জন সালিশদার মিলে এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানায় প্রতিকার না পেয়ে তারা সমাজপতিদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হয়েছেন।
**ঘটনার বিবরণ** স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা একজন ওমান প্রবাসী। অভিযুক্ত মো. মোছলেউদ্দিন (৬০) শিশুটির দূর সম্পর্কের জেঠা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে মোছলেউদ্দিন ওই শিশুর মাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ১৭ মার্চ শিশুটির মা কেনাকাটার জন্য স্থানীয় বাজারে গেলে সেই সুযোগে মোছলেউদ্দিন শিশুটিকে ফুসলিয়ে পুকুর পাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুর চিৎকারে স্বজনরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।
**সালিশি বৈঠক ও জরিমানা** এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো আইনি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত থাকা মো. ফারুক নামে এক সালিশদার জানান, বৈঠকে ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে শিশুকে চড় মারার অপরাধে অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বর্তমানে স্থানীয় হাজী বেলাল উদ্দিনের কাছে জমা আছে।
**পাল্টাপাল্টি বক্তব্য** ভুক্তভোগী মা অভিযোগ করে বলেন, "থানায় মামলা করার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো আমার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ও সালিশদারদের পক্ষপাতিত্বের কারণে আমি বিচার পাইনি। শেষ পর্যন্ত মামলা তুলে নিতে বাধ্য হয়েছি এবং জরিমানার টাকা বুঝে নিয়েছি।"
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোছলেউদ্দিন ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "এটি মূলত মারামারির ঘটনা ছিল যা সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে।"
**পুলিশের ভাষ্য** হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করা হয়েছে কিন্তু ধর্ষণচেষ্টার সত্যতা মেলেনি। তিনি বলেন, "তদন্তে জানা গেছে এটি পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুদের মারামারি থেকে সৃষ্ট ঘটনা। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিশুকে থাপ্পড় দিয়েছিলেন। আমরা ভিকটিমের মাকে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দিলেও তিনি আর আসেননি। স্থানীয় এই মীমাংসার সাথে পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।"
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.