|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
নওগাঁয় পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মানববন্ধন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শোকজ
প্রকাশের তারিখঃ ১০ এপ্রিল, ২০২৬
**উজ্জ্বল কুমার, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:**
নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকউলী বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনর্বহালের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে নিয়মিত পাঠদান বন্ধ রেখে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
**ঘটনার বিবরণ:**
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে চকউলী বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ‘দুর্নীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চাই’ এবং ‘বহিষ্কৃত অধ্যক্ষের ঠাঁই নাই’ সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
**শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ:**
অভিযোগ উঠেছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ করে কয়েকশ শিক্ষার্থীকে তপ্ত রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। সপ্তম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপাশা, মিম ও মারিয়া জানায়, প্রথম পিরিয়ডে হাজিরা নেওয়ার পর আর কোনো ক্লাস হয়নি। শিক্ষকদের নির্দেশেই তারা রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কোনো কর্মসূচিতে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে তা মানা হয়নি।
**অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া:**
শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্বে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এমরান হোসেন নামে এক অভিভাবক বলেন,
"পড়াশোনা বাদ দিয়ে রোদের মধ্যে বাচ্চাদের দাঁড় করিয়ে রাখা অন্যায়। প্রতিবাদ করতে হলে তা ছুটির পর বা ছুটির দিনে করা যেত। স্কুলে সারাক্ষণ ঝামেলা লেগে থাকায় বাচ্চারাও এখন আতঙ্কে থাকে।"
**কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:**
প্রতিষ্ঠানের একজন সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে তারা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন। তবে ক্লাস চলাকালীন কেন এমন কর্মসূচি পালন করা হলো, সে বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলাম কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
**প্রশাসনের পদক্ষেপ:**
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি **আখতার জাহান সাথী** জানান, মাউশি (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর) থেকে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামকে পুনর্বহালের স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে এবং তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
ইউএনও আরও বলেন,
"ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে দাঁড় করানোর কোনো সুযোগ নেই। কার নির্দেশে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করব।"
**প্রেক্ষাপট:**
উল্লেখ্য যে, গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলামকে স্বপদে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে তার সাময়িক বরখাস্ত ও বেতন বন্ধ রাখা অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে সরকারি নির্দেশ অমান্য করায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব চাওয়া হয়েছে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.