|| ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১১ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
নির্বাক শিশু সোহা মনি; শরীরে সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনের চিহ্ন
প্রকাশের তারিখঃ ৯ এপ্রিল, ২০২৬
**এ.এস.এম হামিদ হাসান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:**
সৎ মায়ের নির্যাতন কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে তিন বছরের শিশু সোহা মনি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এই অসহায় শিশুটির ওপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে তার সৎ মা। বর্তমানে ক্ষতবিক্ষত শরীর নিয়ে শিশুটি হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সাড়ে তিন বছর বয়সী এই নিষ্পাপ শিশুটি নির্যাতনের অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের উত্তর চটান এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে।
**ঘটনার বিবরণ:**
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে বাইরে যখন মুষলধারে বৃষ্টি ও বজ্রপাত হচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘরে সৎ মায়ের পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল শিশুটি। সোহা মনির পিতা সাইফুল ইসলাম বৃষ্টির কারণে বাজার থেকে ফিরতে দেরি করায় সেই সুযোগে সৎ মা মরিয়ম শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন। নির্যাতনে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে ফুলে লাল বর্ণ ধারণ করেছে।
বর্তমানে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত সৎ মা মরিয়ম ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন।
**পারিবারিক প্রেক্ষাপট:**
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে সোহা মনির গর্ভধারিণী মা দুই মেয়ে সন্তান রেখে অন্যত্র চলে যান। এরপর সাইফুল ইসলাম মরিয়ম নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। সাইফুল ইসলামের বড় মেয়ে নানার বাড়িতে থাকলেও ছোট মেয়ে সোহা মনি বাবার কাছে সৎ মায়ের সংসারে থাকত।
শিশুটির পিতা সাইফুল ইসলাম জানান, "বৃষ্টির কারণে সেদিন বাড়ি ফিরতে দেরি হয়েছিল। বাসায় ফিরে দেখি সোহা মনি অঝোরে কাঁদছে। পরে তার শরীরে মারধরের দাগ দেখে আমি ক্ষিপ্ত হলে ওই রাতেই মরিয়ম পালিয়ে যায়। সম্ভবত সে আমার নিষ্পাপ সন্তানকে বোঝা মনে করত।" তিনি এই বর্বরোচিত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
**বর্তমান অবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ:**
সোহা মনিকে বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লোহাজুরী ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এই ঘটনাকে 'বর্বর' আখ্যা দিয়ে বলেন, শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এমন কাজ করতে পারে না।
কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির বাবার অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং শীঘ্রই এটি মামলা হিসেবে রুজু করা হবে। তিনি আরও বলেন, "অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তারের জন্য গত রাতে বেশ কিছু স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.