|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কারাগারে
প্রকাশের তারিখঃ ৭ এপ্রিল, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তার রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
**আদালত ও আইনি প্রক্রিয়া**
আজ দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটের দিকে কড়া নিরাপত্তায় একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে শিরীন শারমিনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। লালবাগ জোনের কোতোয়ালি জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে তাকে হাজতখানা থেকে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতা ও আইনজীবীদের প্রচণ্ড ভিড়ে তিনি নাজেহাল হন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
**গ্রেপ্তার ও মামলা**
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই শিরীন শারমিন বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। সর্বশেষ আজ মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানে হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
**অভিযোগের পটভূমি**
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক যুবক চোখে গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় গত ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল। শিরীন শারমিন চৌধুরী এই মামলার অন্যতম আসামি। **রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট**
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি টানা এই পদে আসীন ছিলেন। গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহণকারীদের তালিকায় ছিলেন বলে গত বছর আইএসপিআর নিশ্চিত করেছিল। এর আগে সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুও গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.