|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা: ২৪ দিন ধরে কারাগারে
প্রকাশের তারিখঃ ২ এপ্রিল, ২০২৬
এ. এস. এম হামিদ হাসান , হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রভাবশালী মহলের রোষানলে পড়েছেন সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০)। গত ২৪ দিন ধরে একটি ‘মিথ্যা’ চাঁদাবাজির মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। খায়রুল ইসলাম হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত নূরু মিয়ার ছেলে। তিনি একটি স্থানীয় দৈনিক ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নয়া সংবাদ’-এর হোসেনপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের আর্তনাদ ও সংবাদ সম্মেলন
বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খায়রুলের পরিবার তার নিঃশর্ত মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানায়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক খায়রুলের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগম, স্ত্রী খোশনাহার আক্তার এবং তার তিন সন্তান। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবন্দি থাকায় পুরো পরিবারটিতে এখন বিপর্যয় নেমে এসেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের পোল্যান্ড প্রবাসী আসাদুজ্জামান কিরণের সঙ্গে একই গ্রামের নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। সাংবাদিক খায়রুল পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে পরদিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশ করেন।
খায়রুলের পরিবারের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই আসাদুজ্জামান কিরণ তার ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ২ মার্চ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ ৮ জনের নামে থানায় মামলা করেন। এর তিন দিন পর ৫ মার্চ কিরণের পক্ষে তার বোন আনুরা (৫৩) পাল্টা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিত্তশালী কিরণ প্রভাব খাটিয়ে ওই মামলায় সাংবাদিক খায়রুলকে প্রধান আসামি করে মারামারি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন।
আইনি অবস্থা
পরিবারের অভিযোগ, খায়রুল মারামারি বা কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। শুধুমাত্র সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানি করতে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। গত ৯ মার্চ খায়রুল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারান্তরীণ রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবিলম্বে সাংবাদিক খায়রুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাকে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.