|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে দিশেহারা কৃষক: বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা
প্রকাশের তারিখঃ ১ এপ্রিল, ২০২৬
মাসুদ রানা মনি, লক্ষ্মীপুর,
লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটে জমিতে সেচ দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক। সেচনির্ভর এই মৌসুমে ডিজেলের চড়া দাম এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে ব্যাহত হচ্ছে আবাদ। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেচ পাম্প চালানোর জন্য কৃষকরা পর্যাপ্ত ডিজেল পাচ্ছেন না। কোথাও ডিজেল পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেশি দাম। অন্যদিকে, তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বৈদ্যুতিক পাম্পগুলোও সময়মতো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। পানির অভাবে অনেক ফসলি জমিতে এরই মধ্যে ফাটল ধরতে শুরু করেছে।
রামগঞ্জ উপজেলার কৃষক শামসুল আলম ও হেলাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আগে নির্ধারিত দামে সহজে তেল পাওয়া যেত। এখন দুই-তিনগুণ টাকা দিয়েও সময়মতো ডিজেল মিলছে না। একদিকে তেলের দাম বেশি, অন্যদিকে কারেন্ট থাকে না। এভাবে চললে আমাদের চাষাবাদ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।"
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, বোরো চাষ পুরোপুরি সেচনির্ভর। এই সময়ে ধানের শীষ আসার আগ মুহূর্তে পর্যাপ্ত পানি না পেলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় এবং ধান 'চিটা' হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের ভয়ে চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কিত।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ৩৮ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।
তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি কেবল আশ্বাসে নয়, বরং মাঠপর্যায়ে দ্রুত সমাধান। তারা অবিলম্বে সেচ মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং সরকারি দামে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.