|| ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
নবীনগরে শ্বশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী কে এনে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে
প্রকাশের তারিখঃ ৩১ মার্চ, ২০২৬
মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এনে স্ত্রীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী তানভীরের বিরুদ্ধে।
নিহত নাহিদা আক্তার (২১) লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের শিশু মিয়ার বাড়ির মো. তানভীর আহমেদের স্ত্রী এবং মো. খলিল মিয়ার মেয়ে। অভিযোগ ও
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাহিদা আক্তার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনায় অবস্থায় থেকেই তানভীর আহমেদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে তানভীর প্রায়ই পথে ঘাটে নাহিদাকে বিরক্ত করতেন। এক পর্যায়ে বিরক্তির সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় রূপ নেয়। কথা বলা থেকে শুরু হয়ে গোপন যোগাযোগ-এভাবেই শুরু হয় তাদের প্রেমের গল্প
বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারেই উত্তেজনা তৈরি হয়। বিশেষ করে নাহিদার পরিবার শুরুতে এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
তবে প্রেমের টানে সব বাধা উপেক্ষা করে একসময় বিয়ে করেন নাহিদা ও তানভীর। বিয়ের পর প্রথম এক বছর তাদের সংসার মোটামুটি ভালোই চলছিল।
পরিবার ও সমাজের নানা সমালোচনার মধ্যেও তারা নতুন জীবন শুরু করেন। কিছুদিন পর তাদের সংসারে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান, যার বয়স বর্তমানে প্রায় ৫ বছর।
কিন্তু বিয়ের এক বছর পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে শুরু হয় অশান্তি। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। স্বামী তানভীর আহমেদ স্ত্রীর ওপর বিভিন্ন কারণে নির্যাতন চালাতেন এবং তাকে পরকিয়ায় সন্দেহ করতেন বলেও নাহিদার পরিবার দাবি করেছে।
এরই মধ্যে জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমান তানভীর আহমেদ। দীর্ঘদিন পর ছুটিতে বাড়িতে আসেন তিনি। দেশে ফেরার পর আবারও দাম্পত্য কলহ শুরু হয়। কয়েকদিন আগে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে মারধর করলে নাহিদা আক্তার ৫ বছরের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঘটনার দিন (২৯ মার্চ) রোববার স্বামী তানভীর আহমেদ শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক স্ত্রী ও সন্তানকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু মিয়ার বাড়িতে, স্বামীর নিজ ঘরে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।যদিও স্বামীর বাড়ির লোকজন আত্মহত্যা করেছে বলে জানান, তবে নাহিদার মা মিনুয়ারা তা মানতে নারাজ তিনি বলেন আমার মেয়ে কে আমার বাড়ি থেকে এনে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। ঘটনার পরেই পালিয়ে যায় নাহিদার স্বামী তানভীর।
এ ঘটনায় নিহত নাহিদা আক্তারের মা মিনুয়ারা বেগম সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তিনজনকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং রাত প্রায় ২টার দিকে মরদেহ থানায় নিয়ে আসে। সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়,ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.