|| ২০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১লা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
সৌদির সাথে মিল রেখে বিরামপুরে আগাম ঈদ—২ ইউনিয়নের ১৫ গ্রামে উৎসব, সারাদেশেও শতাধিক গ্রামে একই চিত্র
প্রকাশের তারিখঃ ২০ মার্চ, ২০২৬
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা,দিনাজপুর প্রতিনিধি:
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আগাম পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন দুই ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রামের মুসল্লিরা।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টায় একযোগে একাধিক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের খয়েরবাড়ি-মির্জাপুর জামে মসজিদ এবং একই সময়ে বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধান দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে পুরুষদের পাশাপাশি মাদ্রাসার কক্ষে নারীদেরও নামাজ আদায় করতে দেখা যায়, যা স্থানীয়ভাবে ভিন্নমাত্রার আয়োজন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের চোখে-মুখে ঈদের আনন্দ। নতুন পোশাক, কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
খয়েরবাড়ি জামে মসজিদে ইমামতি করেন মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কাজী এবং আয়ড়া মাদ্রাসা মাঠে ইমামতি করেন হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন প্রসঙ্গে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন কাজী বলেন, “সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র তিন ঘণ্টা, এতে দিনের পরিবর্তন হয় না। তাই আমরা দীর্ঘদিন ধরে এভাবে ঈদ পালন করছি।”
আয়ড়া মোড় ঈদগাহ মাঠের ইমাম জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে পরিকল্পনা থাকলেও ২০১৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় একইভাবে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করা হয়েছে। প্সারতি বছর সাধারণত ৮–১৫টি জেলার ৫০ থেকে শতাধিক গ্রামে সৌদি আরবের সাথে ঈদ উদযাপন হয়ে থাকে। বিশেষ করে দেশের চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গাজীপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, দিনাজপুর জেলাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো মুসল্লি সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদের জামাতে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তারা মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে রোজা ও ঈদ নির্ধারণ করেন, যা বহু বছরের একটি প্রচলিত ধর্মীয় চর্চা।
বিরামপুরেরএই আয়োজন দেশের সামগ্রিক চিত্রেরই একটি অংশ—যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর আগাম ঈদ উদযাপনের এই দৃশ্য দেখা যায়।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.