|| ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
হাতিয়ায় ইউএনও আলাউদ্দিনের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল,শাস্তির দাবি নেটিজেনদের
প্রকাশের তারিখঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬
মোঃ জাকের হোসেন
হাতিয়া(নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এর নারী কেলেংকারীর একটা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে হাতিয়ায় মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শাস্তির দাবি করেছেন অনেকে।
সোমবার দুপুর থেকে(১৭ মার্চ) সকাল পর্যন্ত ভিডিওটি হাতিয়ায় অসংখ্য ফেইসবুক আইডিতে শেয়ার হতে থাকে।
ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আনন্দবাজার ডটকম লাইভ নামে একটা পোর্টাল থেকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায় ইউএনও আলাউদ্দিন হাতিয়ার বাইরে কোন এক হোটেলে এক তরুনীর সঙ্গে আপত্তিকর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
ফলে সোমবার উপজেলা পরিষদের মাসিক ও আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে পর্যন্ত ইউএনও উপস্থিত থাকেননি । জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ আছে বলে একটা অযুহাত দেখিয়ে সকালে তিনি হাতিয়া ত্যাগ করেন বলে জানান ইউএনও’র দপ্তরের কর্মীরা। যার কারণে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সভাপতিত্বে যেনতেন ভাবে আধাঘন্টার মধ্যে সভার কার্যক্রম শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানান নেতিবাচক গুঞ্জন শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক লোকমান হোসেন নামের একজনে তার আইডিতে লেখেন, এই ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল করে ইউএনও কে জাতীয় নির্বাচনে কাজে লাগানো হয়। পরে ইউএনও কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ায় হাতিয়ার সরকারের কুচক্রীমহল এটি ভাইরাল করে দেয়।
মেহেদী হাসান নামের একজনে লেখেন- হাতিয়া অবৈধ এমপি বানানোর প্রধান কারিগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের ভিডিও ভাইরাল।
এছাড়া, অনেকে তাদের ফেইসবুক আইডিতে নারী কেলেংকারীসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি করায় তার শাস্তির দাবি তোলছেন।
উল্লেখ্য, এর পূর্বে ১২ মার্চ 'আমাদের কন্ঠ'নামের একটি অনলাইন পোর্টালে-'দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে আলোচনায় হাতিয়ার ইউএনও আলাউদ্দিন' শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হয়। যেখানে উল্লেখ করা হয়- ইউএনও আলাউদ্দিন পূর্ববর্তী কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আর্থিক অনিয়মসহ নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে পদোন্নতি পেয়ে হাতিয়া উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন।
অভিযোগ উঠে, ইউএনও আলাউদ্দিন হাতিয়াতে গত অর্থ বছরের টিআর-কাবিখা, পৌরসভা অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী সেলিম উদ্দিনের সাথে যোগসাজসে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে কোটি কোটি টাকা অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন।
বিশেষ করে চলতি অর্থবছরে হাট-ঘাট ইজারা, টিসিবি ও ইউরিয়া সারের ডিলার নিয়োগসহ জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রসমূহে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ইউএনও'র বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্রিকফিল্ড মালিক জানান, যে ব্রিকফিল্ড থেকে মোটা অংকের টাকা দেওয়া না হয়- সে ব্রিকফিল্ড অবৈধ বলে জরিমানাসহ সিমনি ভেঙে দেয় ইউএনও আলাউদ্দিন।
আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। পরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যম থেকে জেনেছেন। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.