মোঃ জাবেদ আহমেদ জীবন ব্রাহ্মণবাড়ীয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদর ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিককে তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। গত ১৬ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন—অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খতিয়ান করতে আসা আলমাস হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাগজপত্র তিন মাস আটকে রেখে আবেদনটি বাতিল করে দেওয়া হয়। এই সংবাদ সংগ্রহের জন্য বাংলা টিভি ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি পিয়াল হাসান রিয়াজ, গ্রীন টিভি-র মুমিনুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের আলো-র এসএম অলিউল্লাহ সদর ভূমি অফিসে যান।
সেখানে তথ্য সংগ্রহের একপর্যায়ে সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। একপর্যায়ে সাংবাদিক ও কয়েকজন সেবাগ্রহীতাকে অফিসের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার এই ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিস সহায়ক হাবিবুর রহমান ও সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। জমিসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের পর খারিজের ফাইল উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামসুদ্দোহার বিরুদ্ধে এর আগেও ঘুষ গ্রহণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ দরিকান্দী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালীন সরকারি খালের মাটি কাটার অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে জনৈক রুবেল মিয়ার কাছ থেকে ৭৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী ভূমি মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দিয়ে জানিয়েছেন যে, নামজারির নামে কয়েক লাখ টাকা নিয়েও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী নায়েব শামসুদ্দোহাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, "সাংবাদিকদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।