|| ১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
গঙ্গাচড়ার বেতগাড়ী গরুর হাটে অতিরিক্ত ফি আদায় প্রশাসন নিরব
প্রকাশের তারিখঃ ১৭ মার্চ, ২০২৬
রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বেতগাড়ী গরুর হাটে সরকারি নিয়মনীতি অমান্য করে ইজারা দারের ইচ্ছা মত চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিপুল পরিমাণের অর্থ। দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি শর্ত অনুযায়ী হাট ইজারার নিয়মে বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো প্রকার অর্থ আদায়ের বিধান না থাকলেও বাস্তবে তাদের কাছ থেকেই জোরপূর্বক টাকা নেওয়া হচ্ছে। গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে রশিদে ৬০০ টাকা উল্লেখ থাকলেও আদায় করা হচ্ছে ৭০০ টাকা। পাশাপাশি বিক্রেতাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ছাগল ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র ক্রেতার কাছ থেকে নির্ধারিত ফি নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতি লেনদেনে প্রায় ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। এদিকে হাঁস-মুরগির মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। হাটে আসা বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি পিস হাঁস বা মুরগির জন্য ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, হাটে সরকারি নির্ধারিত মূল্য তালিকা টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোথাও তা প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে প্রকৃত ফি সম্পর্কে জানতে না পারায় সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে হাঁস-মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে হাট ইজারা অফিস হিসেবে, যা সরকারি নিয়মের পরিপন্থী বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাটে দায়িত্বে থাকা একাধিক রশিদ লেখক জানান, তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেন না, ইজারাদারের নির্দেশেই অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে।
ক্ষুব্ধ বিক্রেতা মুকুল মিয়া বলেন, সরকার বলে চাঁদাবাজি হবে না, কিন্তু হাটে এসে দেখি ভিন্ন চিত্র। আমরা গরিব মানুষ,কষ্ট করে গরু এনে বিক্রি করি, অথচ এখানে এসে জোর করে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। প্রতিবাদ করতে গেলেও ভয় দেখানো হয়। এটা কোনো নিয়ম না, প্রকাশ্য ডাকাতি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।
লাভলু মিয়া বলেন গরু প্রতি ৭০০ টাকা ও বিক্রেতার কাছে ২০০ টাকা ইজারাদার আদায় করেছে।
ধনতোলা এলাকা থেকে আসা ক্রেতা বাচ্চা মিয়া বলেন, প্রতিবাদ করতে গেলেই ভয় দেখানো হয়। প্রশাসন যদি আমাদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে আমরা কোথায় যাবো?
এ বিষয়ে ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা স্বপন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইফতারের পরে আসেন,কথা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.