|| ১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
মধ্যনগরে গভীর রাতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব: শিলাবৃষ্টিতে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত, ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা
প্রকাশের তারিখঃ ১৫ মার্চ, ২০২৬
শফিকুল ইসলাম শফিক, (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় গভীর রাতে কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও ভারী বৃষ্টিতে বেশ কিছু বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হঠাৎ আঘাত হানা এই ঝড়ের কারণে আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে হঠাৎ আকাশে ঘন কালো মেঘ জমে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ঝড় শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং শুরু হয় ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি। ধাপে ধাপে প্রবল ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও বড় আকারের শিলাবৃষ্টি ভোর প্রায় ৫টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অনেক স্থানে বড় আকারের শিলা পড়তে দেখা গেছে, যা বসতঘর ও ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বেশ কিছু বসতঘরের টিনের চাল ছিদ্র হয়ে যায় এবং অনেক ঘর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের ঘরবাড়িতে বেশি ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অনেক পরিবার রাতেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির কারণে উপজেলার বিভিন্ন কৃষিজমিতে থাকা বোরো ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলেরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। যদিও এখনো মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যায়নি।
১নং উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা মো. শাজাহান বলেন,
“শিলাবৃষ্টির কারণে আমার ঘরের টিনের চাল পুরোপুরি ছিদ্র হয়ে গেছে। আমার একটি মাত্র ঘরই ছিল সম্বল। আমি একজন হতদরিদ্র মানুষ, আমার নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। খাস জমিতে থাকি। থাকার মতো ছোট এই ঘরটিই ছিল, গত রাতের শিলাবৃষ্টিতে সেটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে। এখন কীভাবে থাকব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
একই ইউনিয়নের কার্তিকপুর গ্রামের মুসলিম খা বলেন,
“রাতভর ধাপে ধাপে ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে এলাকায় কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, ঝড় থামার পর সকালে অনেকেই নিজেদের ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের টিন ও বেড়া মেরামতের চেষ্টা করছেন। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ শেষে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.