|| ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
গাইবান্ধা পৌর মহাশ্মশান রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন, ভূমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ
প্রকাশের তারিখঃ ১৪ মার্চ, ২০২৬
মোঃ মাহমুদুল হাবিব রিপন,প্রতিনিধি গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা পৌর মহাশ্মশানের জমি দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ এবং শ্মশান কমিটির সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানা যায়, পৌর এলাকার জুম্মাপাড়ায় অবস্থিত গাইবান্ধা পৌর মহাশ্মশান দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি রাতের অন্ধকারে কিছু ব্যক্তি ওই শ্মশানের জমি দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেন সেখানে উপস্থিত হলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৪ মার্চ) গাইবান্ধা শহরের ডিবি রোডে আসাদুজ্জামান মার্কেটের সামনে পৌর মহাশ্মশান কমিটির উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে শ্মশান কমিটির সভাপতি রবিন সেনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন প্রসাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ, আদিবাসী বাঙালি সংহতি পরিষদের সদর উপজেলা আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ হোসেন, সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও লালচান বিশ্বাস সুমন।
এছাড়া বক্তব্য দেন সনাতন সংঘের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র দাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল সাহা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের বিপুল চন্দ্র দাশ, বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি সুমন চক্রবর্ত্তী, কালী মন্দির কমিটির রঞ্জন সাহা এবং পৌর মহাশ্মশান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মহাশ্মশান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এ ধরনের জায়গা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার কথাও জানান তারা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.