|| ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৩শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
তেরখাদায় ১০ দিনে ৩ ডাকাতি, ছিনতাই-১
প্রকাশের তারিখঃ ১২ মার্চ, ২০২৬
তেরখাদা প্রতিনিধিঃ
৭ দিনের ব্যবধানে তেরখাদা উপজেলার বলর্দ্ধনা গ্রামে আবারও দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
ডাকাতদল ১০ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে বলর্দ্ধনা গ্রামের সেনা সদস্য বিশ্বজিৎ কুমার দাসের পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল সহ ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট ও ক্ষতি সাধন করে। ডাকাত দল বিশ্বজিৎ কুমার দাসের ঘরের ৪টা রুমের সমুদয় মালামাল তছনছ করে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, ৭/৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ অস্ত্রধারী ডাকাতদল বিশ্বজিতের ঘরের গ্রীলের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে বিশ্বজিত দাসের স্ত্রী সুপ্রিয়ার রুমে প্রবেশ করে তাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে অস্ত্র উচিয়ে বলে বউদি কোনো শব্দ না করে যা যা আছে দিয়ে দেন। আলমারি, সোকেস, ওয়ারড্রপের চাবি দেন। না দিলে আপনাকে ও আপনার ছেলেকে শেষ করে দেবো। এ কথা বলেই সুপ্রিয়ার গলার চেইন খুলতে যায়। এ সময় সুপ্রিয়া বলেন, আমার গায়ে হাত দিয়েন না। আমি খুলে দিচ্ছি। চাবিও দেখিয়ে দেন। সুপ্রিয়া নির্বাক হয়ে নিজের গলার চেইন, হাতের চুরি ও কানের দুল খুলে দেন। পরে ডাকাতদল বিশ্বজিতের মায়ের ঘরে প্রবেশ করে আলমারি থেকে একটি স্বর্ণের চেইন এবং দুইটা কানের দুল এবং মেটে ব্যাংক এবং সুপ্রিয়ার ভেনেটি ব্যাগ থেকে ২০হাজার টাকা নিয়ে যায়। ডাকাতদল ঘরের দেড়তলায় উঠে গিয়ে সেখান থাকা দুই ট্রাংক, ঘরে থাকা আলমারি, সোকেস, ওয়ারড্রপ, ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার এবং ৪টি রুমের সকল মালামাল তছনছ করে। সুপ্রিয়া জানান, ডাকাতদল জুতার ভিতরেও টাকা ও স্বর্ণের সন্ধান করে। বিশ্বজিৎ চাকরি করার সুবাদে বাইরে থাকেন। বাড়িতে তার স্ত্রী, মাতা এবং ৩বছরের পুত্র স্নিগ্ধজিৎ দাস থাকে। ডাকাতদল যাওয়ার সময় বলে যায়, চিৎকার করবেন না। কাউকে জানাবেন না। কাউকে জানালে আবার দেখা হবে। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী দৌড়ে এসে থানা পুলিশকে জানায়। সুপ্রিয়া জানান, ঘটনার অনেক পরে পুলিশ আসে। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার "ক" সার্কেল মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসের গোড়ার দিকে তেরখাদা সদরে উপজেলা পরিষদের অদূরে জাহিদুল ইসলামের বাড়িতে এবং কামারোল গ্রামের শিক্ষক অপর্না রানী বিশ্বাসের বাড়িতে ডাকাতি সংঘটিত হয়। এছাড়া গাজীপুর এলাকায় একটি ছিনতাই সংঘটিত হয়। এ সব বিষয়ে তেরখাদা থানায় পৃথক পৃথক দুটি মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এদিকে প্রতিনিয়ত ডাকাতি, ছিনতাই আর চুরির ঘটনা ঘটায় জনমনে আতংক, আশংকা আর উদ্বেগের মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে সকল শ্রেণি পেশার লোকদের। এসব ঘটনা থেকে পরিত্রাণ চায় এলাকাবাসী।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.