|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
SIR নথি জমা দেওয়ার পরেও বিবেচনাধীন! ‘আতঙ্কে আত্মঘাতী’ যুবকের দেহ নিয়ে উস্তিতে ধর্নায় তৃনমূলের কো অর্ডিনেটর সামিম আহমেদ এর নেতৃত্বে
প্রকাশের তারিখঃ ৪ মার্চ, ২০২৬
বাইজিদ মন্ডল দক্ষিন চব্বিশ পরগনা:-
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত এস,আই,আর এর চূড়ান্ত তালিকায় নামের পাশে ‘বিবেচনাধীন’ দেখে আতঙ্ক ছড়াল মগরাহাট পশ্চিমে উস্তি থানার উত্তর কুসুম অঞ্চলের ঘোলা নয়াপাড়া এলাকায়। আর এই আতঙ্কে দুশ্চিন্তার জেরে আত্মঘাতী হন উস্থি নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রফিক আলি গাজী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় মঙ্গলবার রাতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন পেশায় ভ্যানচালক ৪৪ বছরের রফিক। রাতেই উদ্ধার করা হয় রফিকের দেহ। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন লিস্টে তাঁর নাম থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন রফিক। কেন তাঁর নাম সেই লিস্টে, তাঁকে পরিবার ছেড়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকতে হবে না তো, এই আতঙ্কেই রফিক আত্মঘাতী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মৃত্যুর খবর পেয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বরা।এমনকি ডায়মন্ড হারবার এর সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।এই বিষয়ে এক প্রতিবেশী বলেন, চূড়ান্ত তালিকায় বিবেচনাধীন থাকায় রফিক আতঙ্কে ভুগছিল। আমাদের বার বার জিজ্ঞেস করত, এ বার কী হবে? আমি তো সব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম,তার পরেও কেন এমন হল। আমাকে এ বার ডিটেশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে না তো?' পরিবারের পক্ষ থেকে আরো দাবি, গত কয়েক দিন ধরেই এস,আই,আর নিয়ে উদ্বেগে ভুগছিলেন রফিক,পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর দুশ্চিন্তায় ভুগছে তারা। রফিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এর দায় কমিশনের। মৃতের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উস্থি থানায় কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন মৃত রকিরের স্ত্রী আমিনা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। রফিকের মৃত্যুর জন্য এসআইআর-কে দায়ি করে বিজেপি ও কমিশনকে নিশানা করেছে স্থানীয় রাজ্যের শাসকদল। মগরাহাট পশ্চিমের কো অর্ডিনেটর সামিম আহমেদ বলেন, অতিরিক্ত টেনশনে আত্মঘাতী হন। তাঁর বাবার ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে,নামে কোনও গন্ডগোল নেই। আজকে বিজেপির কথায় তাদের টার্গেট পূরণ করতে নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করছে। আর সাধারণ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে। আর কত প্রাণ গেলে নির্বাচন কমিশনের হুঁশ ফিরবে? আমরা উন্নয়ন করে ভোট নিতে চাই,আর ওরা ভয় দেখিয়ে জিততে চায়। তিনি আরও বলেন, দুটো ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে,কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্ত্রী আমিনা। তিনি আরো আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পক্ষ থেকে আমরা রফিকের পরিবারের পাশে আছি। রফিকের মৃত্যুতে নির্বাচন কমিশন এর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ক্ষোভ উগরে দিয়েছে তার পরিবার থেকে শুরু করে প্রতিবেশীরা। স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় ও মৃতের পরিবারে এখন সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.