|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
কুলিয়ারচরে টয়লেটের টাংকিতে ফেলে শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটন
প্রকাশের তারিখঃ ৪ মার্চ, ২০২৬
মো. আলী সোহেল, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৮ দিন পর চার মাসের শিশু আশরাফুলের মরদেহ বাড়ির পেছনে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে গতকাল ৩ মার্চ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এবং হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে শিশুর আপন চাচী রুপা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জিজ্ঞেসাবাদের এক পর্যায়ে ঘাতক চাচী রুপা আক্তার (২০) শিশু আশরাফুলের হত্যার স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শিশু হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ঘাতক চাচী বলেন, আট বছর আগে আশরাফুলের আপন ছোট্ট চাচা আবদুল হাকিমের সাথে বিয়ে হয় এবং একটি মেয়ে সন্তানও জন্ম হয়। আট মাস আগে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে তারপর থেকে তার মেয়ে এবং তাকে ভরণপোষণ করেনা, এবং তার দাদা দাদিও নাকি মেয়েকে আদর যত্ন কম করে, তার স্বামীও বড় ভাইয়ের সন্তানদের আদর করে বেশি। দীর্ঘদিন যাবত এসব সহ্য করে আস্তে আস্তে করে এই মহিলার জিদ ও কষ্ট হিংসা আরো বেড়ে যায়, অনেকদিন যাবত প্লেন করে হঠাৎ করে সুযোগ বুঝে এই ৪ মাসের বাচ্চা আশরাফুলকে হত্যার উদ্দেশ্যে দুনলা থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির পেছনে টয়লেটের টাংকির ঢাকনা খুলে তাতে ফেলে দিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে দেয়।
জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পর তিনি বাড়ির পাশেই পাতা ঝাড়ু দিতে যান। এ সময় শিশুটি ঘরের ভেতরে দোলনায় ঘুমিয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর ঘরে এসে দোলনায় শিশুটিকে না পেয়ে ঘরে ও আশেপাশে খোঁজা খোজির পর শিশুটির কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। ২৮ দিন পর বাড়ির পেছনের টয়লেটের ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা মরদেহটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.