|| ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি
খয়েরবাড়ী থেকে বেলতলা: বাপ-দাদার পেশায় তিন দশকের লড়াই
প্রকাশের তারিখঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মোঃ ইব্রাহীম মিঞা, বিরামপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধি:
প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে রওনা দেন তারা। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আসেন বিরামপুর হাট-এর বেলতলায়। বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এলাকায়। বাপ-দাদার পেশা নাপিতগিরি—এই পেশাকেই আঁকড়ে ধরে তিন দশকের বেশি সময় ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন শীল পরিবার।
খোলা আকাশের নিচে, কেউ বেলতলার নির্দিষ্ট জায়গায়, আবার কেউ ফুটপাতে বসেই চুল-দাড়ি কাটার সেবা দেন। নেই আধুনিক সেলুনের সুযোগ-সুবিধা; একটি চিরুনি, ক্ষুর আর সাধারণ চেয়ারই তাদের মূল ভরসা।
পরিমল শীল বলেন, “আমরা কাজ করে খাই, তারপরও মানুষের সেবা দিচ্ছি। গরীব মানুষের ফুটপাতে বসে কাজ করি। আমাদের তেমন দাম নেই, কেউ মূল্যায়নও করে না। যেখানে বসি, সেখানে পরিবেশটা নোংরা—এটা যেন না থাকে, এই চাওয়াটাই আমাদের।”
একই কথা জানান বিকাশ শীল ও বিষু শীল। তারা বলেন, বছরের পর বছর ধরে একই স্থানে কাজ করলেও একটি পরিষ্কার ও স্থায়ী জায়গার অভাব রয়ে গেছে। ফুটপাতের পাশে সেবা দিতে দেখা যায় শিশির শীলকেও। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও হাসিমুখে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
আয়ের বিষয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা। তারা জানান, চুল-দাড়ি কাটার জন্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা নেন। শিশুদের চুল কাটতে নেন ২০ টাকা, কখনো এর চেয়েও কম নিতে হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এত স্বল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও পেশা ছাড়ার কথা ভাবেননি তারা। বর্ষাকালে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বৃষ্টি এলে খোলা জায়গায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাদা ও পানি জমে পরিবেশ আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। শ্রমজীবী এসব সেবাদাতাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত করার ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তারা।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.