|| ৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
মধ্যনগরে র্যাব-৯ এর অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
প্রকাশের তারিখঃ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শফিকুল ইসলাম শফিক,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯ এর একটি আভিযানিক দল সুনামগঞ্জের মধ্যনগর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি দল জানতে পারে যে মধ্যনগর থানাধীন উত্তর বংশীকুন্ডা এলাকার বিসমিল্লাহ নামক হোটেলের সামনে রাস্তার ওপর কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এমন সংবাদের পরপরই র্যাবের আভিযানিক দল ঘটনাস্থলের দিকে অগ্রসর হয়।
দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় র্যাব সদস্যরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা তাদের হেফাজতে অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা রয়েছে বলে স্বীকার করে।
এরপর তাদের দেহ তল্লাশি ও সঙ্গে থাকা বায়ুরোধক জিপারযুক্ত প্যাকেট তল্লাশি করে মোট ১ হাজার ৮৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সাউদপাড়া গ্রামের মৃত নুর হোসেন ব্যাপারীর ছেলে মোঃ জন্তুর আলী (৫৩) এবং ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গুইলাকান্দা গ্রামের মোঃ হোসেন আলীর ছেলে আবু তাহের (৪২)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা পরস্পরের যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত দুই জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদ্বয় ও জব্দকৃত আলামত সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, মাদক নির্মূলে র্যাব-৯ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সচেতন মহল র্যাবের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে মাদক ব্যবসা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.