|| ৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৮ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় ৯ হাজার ডিজেল ভর্তি ট্রাক সহ প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশের তারিখঃ ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
বুলবুল আহমেদ, নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ততম আউশকান্দি এলাকায় ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস ও একটি তৈলবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাসে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী। দুর্ঘটনায় ট্রাকটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা সাগরিকা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-১১৪১) অতিরিক্ত ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছিল। এ সময় ভৈরব থেকে সিলেটগামী একটি তৈলবাহী ট্রাক (সিলেট-ঢ ৪১-০০৫)-এর সঙ্গে আউশকান্দি পূর্ব বাজার এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষ এড়াতে ট্রাক চালক রাস্তার একপাশে সরে গেলেও বাসের বেপরোয়া ধাক্কায় ট্রাকের পেছনের এক পাশের দুটি চাকা সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। দুর্ঘটনার তীব্র শব্দ ও চাকার বিকট আওয়াজে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর বাসটি কিছু দূরে গিয়ে থেমে যায়। এ সময় বাসের সব যাত্রী দ্রুত নেমে পড়লেও চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখে। বাসের চালক ও হেলপারকে ঘটনাস্থলে না পেয়ে পুলিশ আউশকান্দি শহীদ কিবরিয়া চত্বরস্থ সাগরিকা বাস কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
এ ব্যাপারে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, যাত্রীবাহী বাসটির চালক বেপরোয়া ও অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। চালকের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণই দুর্ঘটনার মূল কারণ। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার পালিয়ে যাওয়াও গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক ও যাত্রীদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। বাসটির কাগজপত্র, চালকের লাইসেন্স, রুট পারমিট এবং ফিটনেস সংক্রান্ত সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে তৈলবাহী ট্রাকের চালক
এ ব্যাপারে ট্রাক চালক মানিক মিয়া বলেন, বাস চালকের বেপরোয়া গতি দেখে আমি রাস্তা ছেড়ে নামলেও রক্ষা পাইনি। আমার গাড়ির বড় ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৯ হাজার লিটার ডিজেল বহন করছিলাম। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, বাসযাত্রীদের অভিযোগ, একই বাসে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের টিকিট দেওয়া হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, টিকিট ও যাত্রী পরিবহন সংক্রান্ত অনিয়মও তদন্তের আওতায় আনা হবে। এবং ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচলের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করা হবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হবে।
Copyright © 2026 দৈনিক বাংলার অধিকার. All rights reserved.